ঢাকারবিবার , ১৯ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ

কৃষি প্রতিবেশ সুরক্ষায় জৈব কৃষি সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০০ সকাল

Link Copied!

বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ, মাটি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব জৈব কৃষিতে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ফসলের উৎপাদন হ্রাস না করে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব কৃষিতে রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এ মত উঠে আসে।

সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল কাদের বলেন, দেশের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সামাজিক আচরণগত পরিবর্তন ছাড়া এই নির্ভরতা কমানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “জৈব কৃষি পদ্ধতিতে উৎপাদন কমে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ে। তবে এর সম্প্রসারণে একটি জাতীয় রোডম্যাপ অত্যন্ত জরুরি।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন বলেন, টেকসই কৃষি নিশ্চিতে জৈব পদ্ধতির বিকল্প নেই। “একসময় কৃষকদের লক্ষ্য ছিল শুধু উৎপাদন বাড়ানো। এখন আমাদের লক্ষ্য হতে হবে উৎপাদন ও পরিবেশ-দুটিরই ভারসাম্য রক্ষা।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা জানান, এখন কৃষকরা সহজেই সয়েল টেস্টিং সুবিধা নিয়ে সার সুপারিশ কার্ড পাচ্ছেন, যা জৈব ও সুষম সার ব্যবহারে সহায়ক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শেখ তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে দেশের মাটি ও পরিবেশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকার কৃষি খাতে ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে, যার ৭৫ শতাংশই রাসায়নিক সারের পেছনে ব্যয় হয়েছে। তিনি নীতিগত দ্বৈততা দূরীকরণ, জাতীয় কৃষি নীতি পুনর্বিবেচনা এবং জৈব সারের উৎপাদনে বৃহত্তর বিনিয়োগের সুপারিশ করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় ড. শহীদ-উজ-জামান বলেন, ভূমি সংস্কার ছাড়া টেকসই জৈব কৃষির বিস্তার সম্ভব নয়। মহসিন আলী বলেন, কৃষক ও স্টেকহোল্ডারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি জৈব কৃষি সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে তার উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ এবং খরচ কমেছে ২৫ শতাংশ।

বক্তারা জৈব সারের প্রণোদনা, বাণিজ্যিক জৈব সারের দ্রুত নিবন্ধন, বর্জ্য থেকে সার উৎপাদন এবং কৃষির ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ গোলাম রাব্বানী, পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কৃষিখাতে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট

কার্বন শোষণে পরিবেশবান্ধব নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

উপকূল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় টমটম চালক নিহত

ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে চীনের বুলেট ট্রেন

বিশ্ববাজারে বেড়েছে আর্জেন্টিনার গরুর মাংসের চাহিদা

দেশজুড়ে আরও পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের শঙ্কা

শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে সৌদি আরব

সন্ধ্যার মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

সীতাকুণ্ডে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

Jamal Bhuyan Joined OPPO as Shop Manager!