
প্রায় তিন বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে করোনাভাইরাস। রোববার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে—যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ। এ সময় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩৬ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত একদিনে ৬২১টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫.৮০ শতাংশ। মৃতদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের একজনের বয়স ১১-২০ বছর, একজনের ৪১-৫০, একজনের ৬১-৭০, একজনের ৭১-৮০ এবং অপরজনের বয়স ৯১-১০০ বছরের মধ্যে। মৃতদের একজন ঢাকার, তিনজন চট্টগ্রামের এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা। এদের মধ্যে চারজন চিকিৎসাধীন ছিলেন বেসরকারি হাসপাতালে এবং একজন সরকারি হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫১৫ জনে। মোট শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৭৮ জন। এর মধ্যে ২০২৫ সালেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩৩ জন এবং মারা গেছেন ১৬ জন।
২০২০ সালের মার্চে দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর দীর্ঘ দুই বছর করোনা তাণ্ডবের মধ্যে ছিল দেশ। ২০২২ সালের শেষ দিকে সংক্রমণ কমে এলেও চলতি বছরের মাঝামাঝি এসে ফের বাড়ছে রোগটির প্রকোপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটির নতুন ভ্যারিয়েন্ট বেশি সংক্রামক হওয়ায় পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশেষজ্ঞরা করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরা ও প্রয়োজনে টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন। জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।