ঢাকাশনিবার , ৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

কনকনে শীতে কাঁপছে দিনাজপুর, জনজীবন বিপর্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৩, ২০২৬ ৪:০৫ অপরাহ্ণ । ১৭৬ জন

বছরের শুরুতেই কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার কবলে পড়েছে উত্তরের জেলা দিনাজপুর। হিমেল বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। তীব্র ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গবাদি প্রাণিরাও চরম কষ্টে রয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। গত কয়েকদিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

তীব্র শীতের কারণে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ফলে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে ভোরের দিকে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

শহরের ডাবগাছ মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী লোকমান হাকিম বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে খুব ঠান্ডা পড়ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছে না। জরুরি কাজ থাকায় এখন বের হয়েছি।”

উপশহর এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, “ঠান্ডার কারণে আমার ছোট নাতির জ্বর হয়েছে। কয়েকবার ডাক্তার দেখিয়েছি, এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। তাকে নিয়ে সারাদিন ঘরের ভেতরে থাকতে হচ্ছে, কিন্তু বাইরের কাজও তো আছে।”

কাঞ্চন কলোনীর বাসিন্দা সামিউল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শীত বেশি পড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত শীতবস্ত্র বিতরণ চোখে পড়েনি। তিনি বলেন, “আমরা দিনমজুর মানুষ। শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই। সরকার বা বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ হলে আমাদের অনেক উপকার হতো।”

ইজিবাইক চালক আসলাম বলেন, “শীতের কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যাত্রী পাওয়া যায় না। আজ সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাত্র ৬০ টাকা ভাড়া পেয়েছি। দুপুরের দিকে রোদ উঠলে যাত্রী বাড়ে।”

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে দুপুরের দিকে রোদ উঠলে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ে এবং শীতের প্রভাব কমে আসে।