
একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক (Agrivoltaics) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ: এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সুফলের ন্যায্য বণ্টনকে প্রতিটি এগ্রিভোল্টাইক উদ্যোগের কেন্দ্রে রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে কৃষকদের অতিরিক্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য আয় নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, লবণাক্ততা, তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদাও বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) ৩.০ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এগ্রিভোল্টাইক পদ্ধতিতে একই জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষিকাজ একসঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব। এতে ফসল উৎপাদন বজায় রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানির দক্ষ ব্যবহার এবং কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫-এ এগ্রিভোল্টাইককে সম্ভাবনাময় জ্বালানির উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে সৌর প্যানেলের নকশা, উচ্চতা ও অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে সরকারি প্রতিনিধি, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।