ঢাকামঙ্গলবার , ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

আফ্রিকায় এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন ইনজেকশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ২, ২০২৫ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ । ১৬৩ জন

আফ্রিকার তিন দেশ এসওয়াতিনি, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাম্বিয়া প্রথমবার সরকারি পর্যায়ে এইচআইভি প্রতিরোধী নতুন ইনজেকশন ব্যবহার শুরু করেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি বিশ্বে এইচআইভির ঝুঁকিতে থাকা সর্বোচ্চ জনসংখ্যার মহাদেশে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এই ইনজেকশন লেনাকাপাভির নামে পরিচিত এবং বছরে দুইবার প্রয়োগ করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি ৯৯.৯ শতাংশের বেশি কমাতে সক্ষম, যা কার্যত একটি শক্তিশালী ভ্যাকসিনের মতো কাজ করে। প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভিবাহী রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।

ইউএনএআইডি-এর অর্থায়নে উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা শাখার তত্ত্বাবধানে নাগরিকদের মাঝে এই ইনজেকশনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। ইউএনএআইডি জানিয়েছে, “দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম কিছু ব্যক্তি এইচআইভি প্রতিরোধে লেনাকাপাভির ব্যবহার শুরু করেছেন; যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ছয় মাস অন্তর নেওয়া এই ইনজেকশনের প্রথম ব্যবহার।”

যুক্তরাষ্ট্রে এই ইনজেকশনের জন্য একজন ব্যক্তির পেছনে বছরে ২৮ হাজার ডলার খরচ হয়। আফ্রিকায় কতজন প্রথম ডোজ পেয়েছেন, তা এখনও জানানো হয়নি। তবে আগামী বছর বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগ বাড়ানো হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবেশী জাম্বিয়া ও এসওয়াতিনি গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ডোজ পেয়েছে। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে সোমবার এই দেশ দুটি ইনজেকশন প্রয়োগ শুরু করেছে। এসওয়াতিনির হুকউইনি এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে। এসওয়াতিনির প্রধানমন্ত্রী রাসেল ড্লামিনি বলেন, “আজ আমাদের জাতীয় এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য ইতিহাসের বাঁক বদলের মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। এই ইনজেকশন দেশের জনগণের সুরক্ষায় নতুন আশার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে যাচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসূচির আওতায় ইনজেকশন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস আগামী তিন বছরে আফ্রিকার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর ২০ লাখ মানুষকে কোনও ধরনের মুনাফা ছাড়াই লেনাকাপাভির সরবরাহ করবে। তবে নীতিগত ইস্যুর কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে ডোজ দিচ্ছে না।

বিশ্বব্যাপী ৪ কোটি ৮ লাখ এইচআইভিবাহী মানুষের মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশই পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করেন। শুধু জাম্বিয়াতেই প্রায় ১৪ লাখ মানুষ এই ভাইরাস বহন করছে এবং প্রতিবছর নতুন সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। এসওয়াতিনিতে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ এই ভাইরাস নিয়ে বেঁচে আছেন; যা ১২ লাখ জনসংখ্যার দেশটির জন্য ভয়াবহ।

আফ্রিকায় এই ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রথমবার সরকারি পর্যায়ে এইচআইভি প্রতিরোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যা মহাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন আশা তৈরি করছে।