ঢাকামঙ্গলবার , ২০ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

অধ্যাদেশ অনুমোদনেই শেষ নয়, বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই মূল কাজ: ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩:১৩ বিকাল

Link Copied!

বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর প্রতিনিধি জামশেদ আহমেদ। তিনি বলেন, আইন পাস হওয়া এক বড় অর্জন হলেও প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো তা সঠিকভাবে কার্যকর করা এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তামাকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা কমানো।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫ এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামশেদ আহমেদ তার বক্তব্যে প্রথমে এটিকে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, তামাক ও ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বা অধ্যাদেশ অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে-ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য, কল্যাণ এবং উৎপাদনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো অবস্থাতেই এর সঙ্গে আপস করা হবে না।

তিনি WHO-এর ভূমিকা ও অংশীদারিত্বের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সঙ্গে কাজ করতে পেরে WHO গর্বিত। তারা তথ্য-উপাত্তভিত্তিক গাইডলাইন প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলতে সহায়তা করেছে।”

তিনি বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং এতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং WHO FCTC-এর ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।”

জামশেদ আহমেদ এই সংশোধিত অধ্যাদেশকে নজিরবিহীন (Unprecedented) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এতে বেশ কিছু নতুন এবং উদ্ভাবনী পদক্ষেপ রয়েছে যা দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি তামাক শিল্পের হস্তক্ষেপ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেন। “তামাক কোম্পানিগুলো তাদের হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাবে এবং এই উদ্যোগগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার নতুন উপায় খুঁজবে। তাই সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে,” বলেন তিনি।

ভবিষ্যৎ করণীয় ও WHO-এর প্রতিশ্রুতিও তিনি তুলে ধরেন। “আইন পাস হওয়াই শেষ কথা নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। WHO এই আইনের প্রয়োগ, মনিটরিং এবং এনফোর্সমেন্টে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। আমাদের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে একটি ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা।”

সবশেষে, তিনি বাংলাদেশ সরকারকে এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য অভিনন্দন জানান এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে WHO-এর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা জনাব নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বিশেষ সহকারী। সভায় সভাপতিত্ব করেন সচিব মো. সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

দেশব্যাপী হাতি জরিপ পরিচালনা করবে অরণ্যক ফাউন্ডেশন

বিশ্বের সেরা নতুন ভবনের স্বীকৃতি পেল রংপুরের ‘গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি’

আম-লিচু বাগানে প্রথমবারের মতো মিলল নতুন প্রজাতির ঝিঁঝিঁ পোকা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে দেশের রোল মডেল হতে পারে বরিশাল

পাট খাতে চীনের প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

Xiaomi Launches Xiaomi TV S Pro Mini LED and Xiaomi TV X Mini LED Series in Bangladesh

বাংলাদেশে শাওমি টিভি এস প্রো মিনি এলইডি ও শাওমি টিভি এক্স মিনি এলইডি নিয়ে এলো শাওমি

স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করছে সরকার

তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্তে স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ সরকারের

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৫৪

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১৯৫

সোনাইমুড়ীতে ট্রলির চাপায় মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু