ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

অধ্যাদেশ অনুমোদনেই শেষ নয়, বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই মূল কাজ: ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩:১৩ বিকাল

Link Copied!

বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর প্রতিনিধি জামশেদ আহমেদ। তিনি বলেন, আইন পাস হওয়া এক বড় অর্জন হলেও প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো তা সঠিকভাবে কার্যকর করা এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তামাকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা কমানো।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫ এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামশেদ আহমেদ তার বক্তব্যে প্রথমে এটিকে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, তামাক ও ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বা অধ্যাদেশ অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে-ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য, কল্যাণ এবং উৎপাদনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো অবস্থাতেই এর সঙ্গে আপস করা হবে না।

তিনি WHO-এর ভূমিকা ও অংশীদারিত্বের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সঙ্গে কাজ করতে পেরে WHO গর্বিত। তারা তথ্য-উপাত্তভিত্তিক গাইডলাইন প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলতে সহায়তা করেছে।”

তিনি বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং এতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং WHO FCTC-এর ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।”

জামশেদ আহমেদ এই সংশোধিত অধ্যাদেশকে নজিরবিহীন (Unprecedented) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এতে বেশ কিছু নতুন এবং উদ্ভাবনী পদক্ষেপ রয়েছে যা দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি তামাক শিল্পের হস্তক্ষেপ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেন। “তামাক কোম্পানিগুলো তাদের হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাবে এবং এই উদ্যোগগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার নতুন উপায় খুঁজবে। তাই সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে,” বলেন তিনি।

ভবিষ্যৎ করণীয় ও WHO-এর প্রতিশ্রুতিও তিনি তুলে ধরেন। “আইন পাস হওয়াই শেষ কথা নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। WHO এই আইনের প্রয়োগ, মনিটরিং এবং এনফোর্সমেন্টে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। আমাদের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে একটি ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা।”

সবশেষে, তিনি বাংলাদেশ সরকারকে এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য অভিনন্দন জানান এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে WHO-এর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা জনাব নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বিশেষ সহকারী। সভায় সভাপতিত্ব করেন সচিব মো. সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নিষেধাজ্ঞার আগে জমজমাট ইলিশের বাজার, রাতভর কেনাকাটা

জলবায়ু বিনিয়োগ বাড়াতে ঢাকায় বিসিডিপি নলেজ কনফারেন্স

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.১২ বিলিয়ন ডলার

vivo Y32: Long-Lasting Battery for Busy Days

ভিভো ওয়াই৩২: দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারিতে চলবে ব্যস্ত দিন

জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস আজ: ই-সিগারেট ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধের আহ্বান

জ্বালানি আমদানিতে ৩১০ কোটি ডলারের অনমনীয় ঋণ নিচ্ছে সরকার

রাজধানীতে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা

জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস আজ: তামাকের ছোবলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নতুন প্রজন্ম

গ্যাসকে পেছনে ফেলে এশিয়ার জ্বালানি মানচিত্রে শীর্ষে এখন সৌরবিদ্যুৎ

হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

মা ইলিশ রক্ষায় হাতিয়ায় মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা