ঢাকামঙ্গলবার , ৩ মার্চ ২০২৬

সুন্দরবনে বনদস্যু ও চোরা শিকারি দৌরাত্ম্য বাড়ছে: কি হচ্ছে প্রকৃতিতে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৩, ২০২৬ ২:০৬ অপরাহ্ণ । ২১ জন

দেশে বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারের ঘটনা কমছে না। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে চার হাজারের বেশি বন্যপ্রাণী শিকার বা পাচারের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে সুন্দরবনের অবদান সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অপরাধ কার্যকরভাবে ঠেকাতে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরের সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত। এটি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎস নয়, বরং হাজারো বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। নদীবেষ্টিত এই বনে হরিণ, বানর, বন্য শূকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

তবে এই জীববৈচিত্র্যই চোরা শিকারি ও পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তু। ২০১২ সাল থেকে দেশে ৬০,২০৯টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হলেও গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ২৩১ জন।

শিকার ও উদ্ধার হওয়া প্রাণীর ধরণ

৩৫% পাখি, ২০২৫ সালে ৩,৫২০টি উদ্ধার

২৮% স্তন্যপায়ী প্রাণী, প্রধানত চিত্রা হরিণ

মাঝে মাঝে রয়েল বেঙ্গল টাইগার শিকারের ঘটনাও ঘটেছে

খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, “একদিকে সুন্দরবনের প্রাণী সংখ্যা বেড়ে যাওয়াটা আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে পাচার ও শিকার উদ্বেগজনক। একটি প্রজাতি কমে গেলে পুরো জীববৈচিত্র্য প্রভাবিত হয়। সমন্বিতভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে।”

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, “শুধু আইন থাকলেই হবে না, কঠোর প্রয়োগ ও জনসচেতনতা উভয়ই বাড়াতে হবে। বননির্ভর ও বনসংলগ্ন মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”

নতুন সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুন্দরবনে অপরাধ কমাতে সরকার বদ্ধপরিকর। বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অফ নেচারের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১,৬১৯ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে।

সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং শিকার ও পাচার কমাতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।