ঢাকামঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

ইপিআই-ইউনিসেফ-স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সভা

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৩:০৮ অপরাহ্ণ । ১৬৭ জন

বাংলাদেশে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় ইপিআই, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে “বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ: চ্যালেঞ্জ, আপারচুনিটি ও করণীয়” শীর্ষক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ. টি. এম. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব, জনস্বাস্থ্য শাখা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সভার সভাপতিত্ব করেন ডাঃ মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ, উপপরিচালক, ইপিআই অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. হালিদা হানুম আখতার, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি; ডাঃ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন ও চেয়ারম্যান, গ্যাভি সিএসও স্টিয়ারিং কমিটি। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, জেলা ও ইপিআই সদর দপ্তরের উচ্ছপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন বক্তারা যে, বাংলাদেশ সরকার টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে টিকাদান কার্যক্রমে দেশের অর্জন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কার্যকর টিকাদানের মাধ্যমে শিশু ও নারীর মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারের টিকা কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে পোলিও ও ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল, হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণ, ৯৩% এইচপিভি (HPV) এবং ৯৭% টিসিভি (TCV) টিকা কভারেজ অর্জিত হয়েছে। ইপিআই কার্যক্রমের মাধ্যমে ১১টি এন্টিজেন, ১০টি রোগের (যক্ষ্মা, ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টঙ্কার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি, নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া, পোলিও, হাম, রুবেলা ও টিটানাস) টিকা প্রদান করা হয়। এছাড়া জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি (HPV) এবং ১২তম এন্টিজেন হিসেবে TCV টিকা সম্প্রতি যুক্ত করা হয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। জনবল শূন্যতার হার প্রায় ৪০%, ৪০ জেলায় টিকাদান কর্মী নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। জেলা পর্যায়ে কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ানের পদ শূন্যতার হার ৫৩%, এবং বাজেট বরাদ্দ ও অনুমোদনের বিলম্ব টিকাদান কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দুর্গম ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত টিকাদান কেন্দ্র ও কর্মী নেই। নগর এলাকায় কার্যকর টিকাদান কৌশল ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কর্মসূচির ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া টিকা বরাদ্দ ও লক্ষ্য নির্ধারণে অসামঞ্জস্যতা, পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের অভাব, জনসচেতনতার সীমাবদ্ধতা সহ আরও নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।

টিকাদান কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সভায় বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিজস্ব টিকাদান কর্মী নিয়োগ, বাজেট বরাদ্দ ও বিতরণ ত্বরান্বিত করা, কোল্ড চেইন রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, লক্ষ্যভিত্তিক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্গম এলাকায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ। এছাড়া ডিজিটাল উদ্ভাবন যেমন E-Tracker, VaxEPI, eVLMIS ও GIS ভিত্তিক মাইক্রোপ্ল্যানিং সিস্টেম সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।

সরকার ইতিমধ্যে টিকাদান কার্যক্রমের জন্য ১,৪০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং ২৪ জেলায় টিকাদান কর্মী নিয়োগ সম্পন্ন করেছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের মধ্যে টিকার ঘাটতি পূর্ণ হবে এবং সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হবে।

সভায় বিষয়ভিত্তিক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ডাঃ নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং ডাঃ রিয়াদ মাহমুদ, চিফ অফ হেলথ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম, ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার।