
রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে কমেনি উত্তাপ। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে নেই স্বস্তি। মাছ-মাংসের চড়া দামের সঙ্গে সবজির বাড়তি খরচও চাপ বাড়াচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষের সংসারে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ঝিগাতলা ও সাদেক খান কৃষি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বিভিন্ন সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের কিছু সবজির দাম আরও বেশি।
বর্ষা মৌসুম হলেও বাজারে উঠেছে শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপি। এসব সবজির দামও বেশ চড়া। ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা এবং শিম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া বাজারে শশা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং পটল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজির দামও বাড়তি থাকায় প্রতিদিনের খাবারের তালিকা ঠিক করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে ১০০ টাকায় কয়েক ধরনের সবজি কেনা গেলেও এখন সেই টাকায় এক কেজি সবজি কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারের ক্রেতা সুমন চন্দ্র বর্মন বলেন, বাজারে এলে এখন ভয় লাগে। এক কেজি সবজি কিনতেই ৮০ থেকে ১০০ টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ আয়-রোজগার বাড়েনি। ফলে এক হাজার টাকার বাজারও এখন খুব বেশি কিছু মনে হয় না।
ঝিগাতলা কাঁচাবাজারের বেসরকারি চাকরিজীবী রব্বানী আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীরা যে যার মতো দাম নিচ্ছেন। পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন খাবারের খরচ চালাতে গিয়ে সীমিত আয়ের মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ ও মোকাম পর্যায়ে বেশি দামের প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী তৌহিদুর রহমান বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আগামী দিনগুলোতে সবজির দাম কমতে পারে। পাইকারি বাজারে নজরদারি বাড়ানো হলে খুচরা পর্যায়েও কম দামে সবজি বিক্রি করা সম্ভব হবে।
তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচের দামে। কয়েক সপ্তাহ আগে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে মরিচ।
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম এখনো চড়া। বিক্রেতারা সরবরাহ বাড়লে দাম কমার আশ্বাস দিলেও আপাতত বাড়তি দামের চাপেই বাজার করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।