ঢাকামঙ্গলবার , ১০ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

রমজানের শেষ দশক: ইবাদত-বন্দেগিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন মহানবী (সা.)

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১০, ২০২৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ । ২১ জন

পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশক মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ সময়। এই সময়টিতে মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ইবাদত-বন্দেগিতে বিশেষ মনোযোগ দিতেন এবং নিজে বেশি ইবাদত করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতে উৎসাহিত করতেন। বিভিন্ন হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়।

হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজানের শেষ দশক শুরু হলে মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ইবাদতে অধিক মনোযোগী হয়ে উঠতেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, “রমজানের শেষ দশক এলে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাত জেগে ইবাদত করতেন, পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং ইবাদতের জন্য কোমর শক্ত করে নিতেন।” — সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম–এ এই হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

এই সময় তিনি রাতের বড় একটি অংশ ইবাদতে কাটাতেন। নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে ইবাদতে অংশ নিতে উৎসাহিত করতেন, যা মুসলিম পরিবারে ইবাদতের পরিবেশ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এতেকাফ। হাদিসে এসেছে, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত এতেকাফ করতেন। এতেকাফের মাধ্যমে তিনি মসজিদে অবস্থান করে একাগ্রতার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। এ তথ্যও সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম–এ উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া রমজানের শেষ দশকে রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে পবিত্র কুরআন–এ উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে এই রাতের অনুসন্ধান করতে মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, রমজানের শেষ দশক একজন মুসলমানের আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এ সময় বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও এতেকাফের মাধ্যমে ইবাদত করা এবং লাইলাতুল কদর–এর সন্ধান করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।