ঢাকামঙ্গলবার , ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

ভারতে বিশ্বকাপের আগে নিপাহ ভাইরাসে নতুন শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ । ২০৪ জন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে যখন ক্রিকেটবিশ্ব প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ভারতে নিপাহ ভাইরাসের নতুন সংক্রমণ টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এই বিশ্বকাপ। তবে সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণের কারণে বিশ্বকাপ ঘিরে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সূচি অনুযায়ী, ভারতে আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের পাঁচটি ভেন্যু এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডিতে মোট আটটি ভেন্যুতে ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সেমিফাইনালসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের ক্লাস্টার দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা ইতোমধ্যে ভারতে নিপাহ ভাইরাস নিয়ে হাই এলার্ট জারি করেছে। জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার, খাইবার নিউজসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংক্রমণ সীমিত পরিসরে আছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।

জানা গেছে, জানুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত পাঁচজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে নার্স ও চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সংক্রমণটি মূলত হাসপাতালে নোসোকোমিয়াল ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে ছড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ ১০০ থেকে ২০০ জনের বেশি সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছে এবং শতাধিক নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই নেগেটিভ এসেছে। এই ক্লাস্টারে এখনো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল ও দর্শকদের যাতায়াত নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংক্রমণ বাড়লে এয়ারপোর্ট স্ক্রিনিং জোরদার, কোয়ারেন্টিন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আবারও চালু হতে পারে। ইতোমধ্যে এশিয়ার কয়েকটি দেশে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপ খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এবং দর্শকদের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালে ভারতের কেরালায় নিপাহ ভাইরাসে চারজন আক্রান্ত হন, যার মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এটি ২০০৭ সালের পর সবচেয়ে বড় নিপাহ আউটব্রেক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা মূলত ফলের বাদুড় থেকে ছড়ায়। কাঁচা খেজুরের রস পান, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ এবং মানুষ থেকে মানুষে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও এনসেফালাইটিস নিপাহের প্রধান লক্ষণ। এই ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এখনো নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই, যদিও কিছু ক্ষেত্রে রেমডেসিভিরের মতো ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিপাহকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এ অবস্থায় বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে আইসিসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে ক্রিকেটবিশ্ব।