ঢাকামঙ্গলবার , ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

বিশ্বে কুকুর পোষার শীর্ষ দেশ

বিপ্লব হোসাইন
নভেম্বর ১৮, ২০২৫ ৭:০০ পূর্বাহ্ণ । ২৯২ জন

বিশ্বজুড়ে পোষা প্রাণীর মধ্যে কুকুরের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুকুর শুধু বাড়ির সঙ্গীই নয়, পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উন্নত দেশ থেকে শুরু করে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশেও কুকুর পোষার প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং একাকীত্ব দূর করার লক্ষ্যে কুকুর পোষার সংস্কৃতি এখন বৈশ্বিকভাবে বিস্তৃত। দেশভেদে কুকুর পোষার সংখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে পছন্দ, প্রয়োজন ও বাজারের ধরন ভিন্ন হলেও, কুকুর মানুষের জীবনে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কুকুর পোষার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; পাশাপাশি দ্রুত উঠে আসছে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোও। ফলে বিশ্বব্যাপী কুকুর পোষার বাজার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়।

শীর্ষ দেশগুলোর তালিকা ও কুকুর পোষার প্রবণতার বিস্তারিত

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – ৯০.০ মিলিয়ন
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই অন্তত একটি পোষা প্রাণী রয়েছে। কুকুরকে এখানে পরিবারের সদস্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বিশাল পেট-ইন্ডাস্ট্রি, ভেটেরিনারি সেবা, কুকুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ডে-কেয়ার মার্কেট এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

২. ব্রাজিল – ৬৭.৮ মিলিয়ন
ব্রাজিল বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কুকুর পোষার দেশ। এখানে কুকুরকে সাধারণত বাড়ির সুরক্ষায়ও ব্যবহার করা হয়। শহরাঞ্চলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পোষা কুকুরের প্রবণতা ব্যাপক।

৩. চীন – ৫৪.৩ মিলিয়ন
চীনে দ্রুত নগরায়ণ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির বৃদ্ধি কুকুর পোষার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে। কুকুর-ফ্রেন্ডলি ক্যাফে, পেট-হাসপাতাল এবং বিশেষ কুকুর পার্কের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত।

৪. মেক্সিকো – ৪৩.৮ মিলিয়ন
মেক্সিকোতে বাড়ির নিরাপত্তা ও পারিবারিক সঙ্গ—দুই কারণে কুকুর পোষার প্রবণতা বেশি। এটিকে লাতিন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ পোষা প্রাণীর বাজার বলা হয়।

৫. ভারত – ৩৬.৮ মিলিয়ন
ভারতে কুকুর পোষার প্রবণতা গত দশকে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। শহরাঞ্চলে একাকী বসবাসকারী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কুকুর পোষা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

৬. জাপান – ২০.০ মিলিয়ন
জাপানে ছোট আকৃতির (toy breed) কুকুর সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সীমিত বাসস্থানের জন্য ছোট জাতের কুকুর পোষা ঘন ঘন দেখা যায়। পেট-ইন্ডাস্ট্রি অত্যন্ত উন্নত।

৭. রাশিয়া – ১৭.৬ মিলিয়ন
রাশিয়ায় বড় জাতের কুকুর জনপ্রিয়, বিশেষ করে সাইবেরিয়ান জাতের। ঠান্ডা আবহাওয়া উপযোগী কুকুরের চাহিদা এখানে বেশি।

৮. যুক্তরাজ্য – ১২.৭ মিলিয়ন
যুক্তরাজ্যে কুকুরকে সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে দেখা হয়। নিয়মিত পেট-হেলথ চেকআপ এবং কুকুর-ভিত্তিক কমিউনিটি কার্যক্রম এখানে সাধারণ।

৯. থাইল্যান্ড – ১২.০ মিলিয়ন
থাইল্যান্ডে অনেক পরিবারই কুকুরকে বাড়ির সুরক্ষায় ব্যবহার করে। গ্রামীণ এলাকাতেও কুকুর তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

১০. ফিলিপাইন – ১১.৬ মিলিয়ন
ফিলিপাইনে কুকুর অনেক সময় পরিবারের শিশুদের মতো অভিভাবকত্ব পায়। কুকুরসহ পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সামাজিক।

১১. জার্মানি – ১০.৬ মিলিয়ন
জার্মানিতে কুকুর পোষা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত। পেট-কালচার খুবই শক্তিশালী, জনসমক্ষে কুকুর নিয়ে বের হওয়াও খুব সাধারণ।

১২. আর্জেন্টিনা – ১০.১ মিলিয়ন
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে কুকুর পোষার প্রবণতায় আর্জেন্টিনা অন্যতম। শহরে বিশেষ কুকুর হাঁটানোর (dog-walking) পেশাই গড়ে উঠেছে।

১৩. স্পেন – ৯.৩ মিলিয়ন
স্পেনে কুকুরকে পারিবারিক সঙ্গী হিসেবে বেশি দেখা হয়। ছোট জাতের কুকুরের জনপ্রিয়তা স্পষ্ট।

১৪. ইতালি – ৮.৮ মিলিয়ন
ইতালিতে কুকুর পোষার হার বাড়ছে। অনেক কুকুর-ক্যাফে ও পেট-ফ্রেন্ডলি রেস্টুরেন্ট তৈরি হয়েছে।

১৫. পোল্যান্ড – ৮.১ মিলিয়ন
পোল্যান্ডে কুকুর গ্রামীণ অঞ্চলে বাড়ির নিরাপত্তায় বেশি ব্যবহৃত হয়।

১৬. কানাডা – ৭.৯ মিলিয়ন
কানাডায় কুকুর পরিবারের সঙ্গী হিসেবে জনপ্রিয়। বিশাল পার্ক এবং আউটডোর লাইফস্টাইল এ সংখ্যা বাড়িয়েছে।

১৭. ফ্রান্স – ৭.৬ মিলিয়ন
ফ্রান্সে ছোট ও মাঝারি আকারের কুকুর বেশি দেখা যায়। কুকুর নিয়ে ভ্রমণের সংস্কৃতিও ব্যাপক।

১৮. দক্ষিণ আফ্রিকা – ৭.৪ মিলিয়ন
এখানে নিরাপত্তা কারণে বড় জাতের কুকুর পোষার প্রবণতা বেশি।

১৯. দক্ষিণ কোরিয়া – ৫.৫ মিলিয়ন
দক্ষিণ কোরিয়ায় ছোট এবং toy breed সবচেয়ে জনপ্রিয়। পেট-ফ্যাশন ও কুকুর-স্পা এখানে খুবই প্রচলিত।

২০. কলম্বিয়া – ৫.০ মিলিয়ন
কলম্বিয়ায় ডগ-রেস্কিউ আন্দোলনের কারণে কুকুর সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে।

২১. ইথিওপিয়া – ৫.০ মিলিয়ন
ইথিওপিয়ায় কুকুর মূলত বাড়ি পাহারার কাজে ব্যবহৃত হয়।

২২. ইউক্রেন – ৪.৯ মিলিয়ন
ইউক্রেনে বড় জাতের কুকুর বেশি দেখা যায়। কৃষিপ্রধান এলাকাতেও কুকুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২৩. ইন্দোনেশিয়া – ৪.৬ মিলিয়ন
ধর্মীয় ও সামাজিক বিবেচনায় ইন্দোনেশিয়ায় কুকুরের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও শহরাঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে।

২৪. রোমানিয়া – ৪.২ মিলিয়ন
রোমানিয়ায় রাস্তার কুকুর সংখ্যা বেশি থাকায় সেগুলোকেও পোষা প্রাণী হিসেবে গ্রহণের প্রবণতা দেখা যায়।

২৫. অস্ট্রেলিয়া – ৩.৭ মিলিয়ন
অস্ট্রেলিয়ায় আউটডোর লাইফস্টাইলের কারণে কুকুর বিশেষভাবে জনপ্রিয়। পরিবারগুলো সাধারণত একের বেশি কুকুরও পোষেন।

বিশ্বে কুকুর পোষার হার বাড়ছে, এবং এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নগরায়ণ, পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন, মানসিক স্বস্তি এবং পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের আবেগ—সবকিছুই কুকুরকে বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রিয় সঙ্গী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশভেদে কুকুরের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে পেট-ইন্ডাস্ট্রি, ভেট সেবা, পোষা প্রাণী-বান্ধব নীতি ও জনসচেতনতা। সার্বিকভাবে বলা যায়-মানুষ ও কুকুরের সম্পর্ক এখন শুধু প্রয়োজন নয়, বরং এক ধরনের মানবিক বন্ধন, যা পৃথিবীর প্রায় সব দেশে একইভাবে অনুভূত হয়।