
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্টের ঝুলে থাকা (পেন্ডিং) সব আবেদন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (২ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আগামী ২১ দিনের মধ্যে বিশ্বের সব বাংলাদেশ হাইকমিশন ও দূতাবাসে চিঠি পাঠিয়ে প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত ঢাকার পাসপোর্ট অফিসে পাঠানোর নির্দেশ দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিবকে ২১ দিনের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
এ ছাড়া পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সময়মতো পাসপোর্ট না পাওয়ায় অনেক প্রবাসী বিদেশে বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। এতে চাকরি হারানো, গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। এসব হয়রানি বন্ধে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়।
পাসপোর্ট দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং প্রবাসীদের দ্রুত পাসপোর্ট সরবরাহে স্থায়ী নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—এ মর্মে চার সপ্তাহের রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রুলের জবাব দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব, আইন সচিব, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) মোট ১৪ জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, রিপন বাড়ৈ ও মাহবুবুল ইসলাম রিট আবেদনটি দায়ের করেন।