ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

পৌষসংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবে শেরপুরে বসেছে দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ । ১০২ জন

পৌষসংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবকে ঘিরে মৌলভীবাজারের শেরপুরে বসেছে দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। সময়ের পরিক্রমায় এই মাছের মেলা এখন শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

মেলায় বরাবরের মতোই বড় মাছের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি দেখা গেছে। বোয়াল, চিতল ছাড়াও রুই, কাতলা, মৃগেল, বাউশসহ নানা প্রজাতির দেশীয় ছোট মাছের সমাহার রয়েছে। হাওর ও নদী থেকে ধরা এসব তরতাজা মাছ নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশ নিয়েছেন। এখানে খুচরা ও পাইকারি—দু’ভাবেই মাছ বিক্রি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে মেলা ঘুরে দেখা যায়, মাছের পাশাপাশি বড় বড় দোকানে কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র, শৌখিন সামগ্রী ও শিশুদের খেলনার অসংখ্য স্টল বসেছে। মেলা উপলক্ষে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

গত সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই মাছের মেলা আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত চলবে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুর এলাকায় কুশিয়ারা নদীর তীরে এ মেলার আয়োজন করা হয়। পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে দিন-রাতব্যাপী এই মেলায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড়শ বছর ধরে পৌষসংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে কুশিয়ারা নদীর তীরে এই মাছের মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। গ্রামীণ এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, মেলায় কয়েক কোটি টাকার মাছের বেচাকেনা হয়ে থাকে।

সুনামগঞ্জ থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ী সাহান আহমেদ বলেন, “প্রতিবছরই এখানে আসি। পাইকারিভাবে মাছ বিক্রি করি। এখান থেকে ব্যবসায়ীরা মাছ কিনে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেন।”

মৎস্যজীবী যথি দাস বকুল বলেন, “আমি প্রায় ২০ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করছি। এই মেলা থেকে পাইকারি মাছ কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করি।”

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মেলা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

উল্লেখ্য, প্রায় দেড়শ বছর আগে পৌষসংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী তৎকালীন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র মনুমুখে এই মাছের মেলার প্রচলন করেন সাধুহাটি গ্রামের জমিদার রাজেন্দ্রনাথ দাম (মথুর বাবু)। পরবর্তীতে মেলাটি শেরপুরে স্থানান্তরিত হলেও আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলেছে শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা।