
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে ‘ব্যালট’ (BALLOT) প্রকল্পে নতুন করে অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) ঢাকায় নরওয়েজিয়ান দূতাবাসে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং নরওয়ে সরকারের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি নতুন অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির আওতায় নরওয়ে সরকার ‘ব্যালট’ প্রজেক্টে অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন (২০ লাখ) নরওয়েজিয়ান ক্রোন অনুদান প্রদান করবে, যা ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত চলমান থাকবে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৯ টাকা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির এই অংশীদারিত্ব স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও গতিশীল করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ জোরদারে ইউএনডিপির সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখতে পেরে নরওয়ে আনন্দিত। একটি শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র গড়ার জন্য ভোটার, প্রার্থী এবং নেতা—সর্বক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।’
ইউএনডিপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোনালী দয়ারত্নে এই অনুদানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘এই অতিরিক্ত অনুদান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্যতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। এছাড়া এটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক ভিত্তি মজবুত করবে।’
এই প্রকল্পের নতুন ধাপের প্রধান তিনটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত, রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করা। তৃতীয়ত, জাতীয় সংসদে ‘পার্লামেন্টারি উইমেনস ককাস’কে সক্রিয় ও শক্তিশালী করা, যাতে তারা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৯.৪ শতাংশ হলেও নারীদের প্রতিনিধিত্বের হার ছিল হতাশাজনক। ৮৭ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাতজন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে এই চিত্র বদলাতে এবং নারীদের ভোটার হিসেবে উপস্থিতি ও প্রার্থী হওয়ার হার বাড়াতে ‘ব্যালট’ প্রকল্পের এই নতুন পর্যায়টি বিশেষভাবে গুরুত্বের সাথে কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে ইউএনডিপি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এই উদ্যোগে নরওয়ের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইউএন উইমেন, ইউনেস্কো এবং ইউএনওডিসি-এর মতো সংস্থাসমূহ এই প্রকল্পে কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী সহায়তা প্রদান করছে।