
শীত মৌসুমের শুরুতেই নড়াইল সদর উপজেলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শুঁটকি প্রস্তুতকারীরা। কোনো রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই নিরাপদ পরিবেশে তৈরি হওয়ায় নড়াইলের দেশীয় পুঁটিমাছের শুঁটকির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
সরেজমিনে মাইজপাড়া ইউনিয়নের শলুয়া এবং সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের শোলপুর গ্রামের শলুয়ার বিল এলাকায় দেখা যায়, বাঁশ-খুটির তৈরি মাচায় চলছে শুঁটকি শুকানোর কাজ। জেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও নদী থেকে প্রতিদিন ধরা মাছ এখানে এনে রোদে শুকানো হয়। ভালোভাবে সংরক্ষণের পর এসব শুঁটকি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, নড়াইলে বর্তমানে ১৫টি পরিবার শুঁটকি তৈরির পেশায় যুক্ত রয়েছে। এ বছর ৮০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাইজপাড়া ইউনিয়নে তিন-চারটি শুঁটকি পল্লীও গড়ে উঠেছে, যেখানে মৌসুমে পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ে টাকি, শোল, কই, চাঁদা ও পুঁটিসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় পুঁটি মাছের শুঁটকি, যা চ্যাপা শুঁটকি নামেই বেশি পরিচিত।
মৎস্যজীবী মো. মোসা মিয়া বলেন, “শীতে বিল-খালের পানি কমে গেলে দেশি মাছ সহজে ধরা পড়ে। সেসব মাছ কম দামে কিনে আমরা শুঁটকি তৈরি করি। তবে দালাল ছাড়া সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারলে আমাদের লাভ আরও বেশি হতো।”
আরেক মৎস্যজীবী অলোক বিশ্বাস বলেন, “দুই-তিন মণ কাঁচা মাছ শুকালে এক মণ শুঁটকি পাওয়া যায়। প্রকারভেদে এক মণ শুঁটকি সাত থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হয়।”
মুকসুদপুর থেকে এসে শুঁটকি তৈরির কাজে যুক্ত মো. কবির শেখ ও কামরুল শেখ জানান, “এখানে কই, চাঁদা ও পুঁটিমাছের চ্যাপা শুঁটকি তৈরি হয়। কোনো রাসায়নিক ছাড়া শুধু লবণ দিয়ে রোদে শুকানো হয়, তাই মানও ভাল থাকে।”
নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “এ বছর ৮০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় নড়াইলের শুঁটকির চাহিদা জেলাতেই নয়, দেশের অন্যান্য জেলাতেও উল্লেখযোগ্য। আমরা উৎপাদনকারীদের মানসম্মত শুঁটকি প্রস্তুতে নানা প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছি।”