
সারা দেশে টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) পরিচালিত ২০২৬ সালের ট্রাকসেল কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২৮.৮০ লক্ষ উপকারভোগী সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সুবিধা পাচ্ছেন । এবারের কার্যক্রমে পণ্যের মোট পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৩,৯৩৯ মে. টন।
সোমবার (১১ মে) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে পেশ করা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবারের ট্রাকসেলে বিক্রিত পণ্যের মোট ক্রয় মূল্য প্রায় ১৮০ কোটি টাকা, যার বিপরীতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা ।
আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন
টিসিবির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবার সরবরাহ চেইন (Supply Chain) ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে । এছাড়া ডিলারশিপের ক্ষেত্রে একটি সংশোধিত নীতিমালা শীঘ্রই প্রণয়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে । সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ট্রাকসেলের ভর্তুকি কমিয়ে আনা ।
উপকারভোগী ও মজুত পরিকল্পনা
বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৮০ লক্ষ উপকারভোগী নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে । অবশিষ্ট ২০ লক্ষ উপকারভোগীকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার ফলে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১ কোটিতে । এছাড়া বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির মাধ্যমে ‘কৌশলগত মজুত’ (Strategic Reserve) গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ।
বিগত বছরের তুলনা
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিগত উৎসবগুলোতে ট্রাকসেলের ব্যাপ্তি আরও বিশাল ছিল। গত রমজান ২৬-এ ৩৬ লক্ষ উপকারভোগীর মাঝে প্রায় ২২,৩৭৪ মে. টন পণ্য বিক্রয় করা হয়েছিল । অন্যদিকে, গত বছর ঈদুল আযহা ২৫-এ উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ২২.০৮ লক্ষ জন এবং বিক্রয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০,৬৮৬ মে. টন ।
টিসিবি সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৌশলগত মজুত ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।