ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস আজ: তামাকের ছোবলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নতুন প্রজন্ম

প্রতিবেদক
বিপ্লব হোসাইন
৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ সকাল

Link Copied!

‘ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা সংগঠনগুলো ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও অন্যান্য নতুন নিকোটিন পণ্যের বিস্তার বন্ধ, শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুরক্ষা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে দেশে প্রতিবছর জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী খেলার মাঠের সামনে অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এখনো বড় জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার করছে

বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে গত কয়েক বছরে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তামাকের ব্যবহার এখনো বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে আছে। সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ২০১৭ অনুযায়ী, ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের তামাক ব্যবহার করতেন। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ ধূমপানজাত তামাক এবং ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করতেন।

ধোঁয়াবিহীন তামাকের মধ্যে জর্দা, গুল, সাদাপাতা ও অন্যান্য পণ্য রয়েছে। ফলে তামাকের স্বাস্থ্যঝুঁকি শুধু সিগারেট বা বিড়ি ধূমপানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধোঁয়াবিহীন তামাকও নিকোটিন আসক্তি তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

তামাকজনিত রোগে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি

তামাক ব্যবহার হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের বোঝা বাড়ার সঙ্গে তামাক ব্যবহারের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৬ সালের মে মাসে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয় এবং তামাক ও নিকোটিন ব্যবহার এসব রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। একই বার্তায় ‘Tobacco Atlas 2025’-এর তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।

এ ছাড়া তামাক ব্যবহারের কারণে চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হারানো, অকালমৃত্যু ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে দেশের অর্থনীতিতেও বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ওই বার্তায় ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়, তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়াসহ দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ক্যানসার চিকিৎসাতেও বাড়ছে চাপ

তামাকের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত। দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ও চিকিৎসার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসা নিতে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICRH)-এর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, সেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ জন নতুন রোগী রেডিওথেরাপির জন্য আসছেন। বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার রোগী রেডিওথেরাপির অপেক্ষায় রয়েছেন এবং কারও কারও অপেক্ষার সময় ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত হচ্ছে।

৮ অক্টোবর প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে NICRH-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে নতুন ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩-এ পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জনের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ হয়েছে।

তবে ক্যানসারের এসব পরিসংখ্যানের সবটাই যে তামাকজনিত-এমন দাবি করা যায় না। ক্যানসারের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। কিন্তু তামাক বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি হওয়ায় তামাক নিয়ন্ত্রণ ক্যানসার প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নতুন উদ্বেগ ই-সিগারেট ও নিকোটিন পণ্য

পুরোনো তামাকপণ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমানে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো পণ্য ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন তামাক বা নিকোটিন পণ্য ব্যবহার করছেন বলে উঠে এসেছে। একই গবেষণায় ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এসব পণ্যের অন্তত একটি ব্যবহার করেছেন বলে জানিয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫২৪ জনের অনলাইন জরিপের ভিত্তিতে করা হয়।

গবেষণায় ই-সিগারেটই ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নতুন পণ্য; ৪ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বর্তমানে ই-সিগারেট ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।

তামাকবিরোধী জোটের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তরুণ ধূমপায়ীদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহারের হার ২০২৬ সালে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এই সংখ্যাটি বাটা কর্তৃক উদ্ধৃত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করাই নিরাপদ; এটিকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্বশীল সরকারি জরিপের ফল হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

২০১৭ থেকে বদলেছে ই-সিগারেটের চিত্র

বাংলাদেশের GATS ২০১৭ অনুযায়ী, তখন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বর্তমান ই-সিগারেট ব্যবহারকারীর হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ।

অর্থাৎ নতুন নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার এখনো প্রচলিত সিগারেট বা ধোঁয়াবিহীন তামাকের তুলনায় অনেক কম হলেও তরুণদের মধ্যে এ ধরনের পণ্যের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাজারজাতকরণ, বিভিন্ন ফ্লেভার, আকর্ষণীয় নকশা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের কাছে এসব পণ্য সহজে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ।

ই-সিগারেট কি নিরাপদ বিকল্প?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, ই-সিগারেটকে নিরাপদ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এসব পণ্যের অ্যারোসলের মধ্যে নিকোটিন ও অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ থাকতে পারে। কিছু পণ্যে এমন রাসায়নিকও পাওয়া যায়, যেগুলো ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ ও ফুসফুসের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের জন্য নিকোটিনের ঝুঁকি বেশি। WHO বলছে, নিকোটিন অত্যন্ত আসক্তিকর এবং শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, ই-সিগারেট ব্যবহারকারী তরুণদের প্রচলিত সিগারেট শুরু করার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

ফলে ই-সিগারেটকে শুধু ‘ধূমপানের বিকল্প’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে এর নিকোটিন আসক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

২০২৫ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল, ২০২৬ সালের আইনে সেই বিধান বাদ

ই-সিগারেট ও ভ্যাপ নিয়ে বাংলাদেশের আইনগত অবস্থান গত এক বছরে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর জারি করা ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট, নিকোটিন পাউচসহ উদীয়মান তামাক ও নিকোটিন পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, বিপণন, বিতরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

পরে জাতীয় সংসদ ১০ এপ্রিল ২০২৬ ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস করে। সরকারি আইনভান্ডারে আইনটি ২০২৬ সনের ৯১ নম্বর আইন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই আইনে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ রহিত করা হয়। ফলে ওই অধ্যাদেশে যুক্ত হওয়া ই-সিগারেট ও অন্যান্য উদীয়মান নিকোটিন পণ্যের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বিধানও আর বহাল থাকেনি।

তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, এই পরিবর্তনের ফলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নতুন নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাতীয় তামাকমুক্ত দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যেও ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করে শিশু-তরুণদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় কঠোর বিধিনিষেধ বহাল

ই-সিগারেটের ওপর ২০২৫ সালের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের আইনে বহাল না থাকলেও তামাকের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে আইনটি কঠোর বিধান রেখেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের জুনে গণমাধ্যমকে জানায়, সংশোধিত আইনের আওতায় তামাক ও তামাকজাত পণ্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রচার নিষিদ্ধ। এর আওতায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সিনেমা, নাটক ও তথ্যচিত্রও রয়েছে।

অর্থাৎ নতুন নিকোটিন পণ্যের বাজার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তামাকজাত পণ্যের প্রচার ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে ২০২৬ সালের আইনে গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ রয়েছে।

শিশু ও তরুণদের সুরক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে উদ্বেগের জায়গাটি শুধু বর্তমান তামাক ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠী নয়; বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা।

১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় নতুন তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার এবং অতীতে ব্যবহারের হার যে অবস্থায় পাওয়া গেছে, তা বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও শিশু-কিশোরদের ই-সিগারেট ও নিকোটিন পণ্যের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। আকর্ষণীয় ফ্লেভার, নকশা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের কাছে এসব পণ্য পৌঁছানোর বিষয়টি বিশেষ উদ্বেগের বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

শুধু দিবস নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক তামাক নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস তাই শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়; তামাক নিয়ন্ত্রণের বিদ্যমান আইন বাস্তবায়ন, তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা কমানো, শিশু-কিশোরদের নিকোটিন থেকে সুরক্ষা, তামাক ছাড়তে আগ্রহীদের সহায়তা এবং নতুন নিকোটিন পণ্যের বিস্তার পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলোও সামনে নিয়ে আসে।

বাংলাদেশে প্রচলিত সিগারেট, বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার এখনো বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এর পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের ব্যবহার তরুণদের মধ্যে বাড়ার প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তামাক নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ নীতিতে পুরোনো তামাকপণ্যের পাশাপাশি নতুন নিকোটিন পণ্যকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জাতীয় তামাকমুক্ত দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য সেই বার্তাই সামনে আনছে-শিশু ও তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষা করতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নিষেধাজ্ঞার আগে জমজমাট ইলিশের বাজার, রাতভর কেনাকাটা

জলবায়ু বিনিয়োগ বাড়াতে ঢাকায় বিসিডিপি নলেজ কনফারেন্স

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.১২ বিলিয়ন ডলার

vivo Y32: Long-Lasting Battery for Busy Days

ভিভো ওয়াই৩২: দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারিতে চলবে ব্যস্ত দিন

জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস আজ: ই-সিগারেট ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধের আহ্বান

জ্বালানি আমদানিতে ৩১০ কোটি ডলারের অনমনীয় ঋণ নিচ্ছে সরকার

রাজধানীতে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা

জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস আজ: তামাকের ছোবলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নতুন প্রজন্ম

গ্যাসকে পেছনে ফেলে এশিয়ার জ্বালানি মানচিত্রে শীর্ষে এখন সৌরবিদ্যুৎ

হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

মা ইলিশ রক্ষায় হাতিয়ায় মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা