ঢাকাবুধবার , ৫ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ খাদ্য

খাবার কিনতেই আয়ের ৫৫ শতাংশ খরচ, দারিদ্র্য বেড়েছে

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৫ অগাস্ট ২০২৫, ৬:১৩ বিকাল

Link Copied!

তিন বছরের ব্যবধানে দেশে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অতি দারিদ্র্যের হারও; যা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর এলজিইডি মিলনায়তনে ‘ইকোনমিক ডাইনামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো ত্রিবিধ সংকট দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, পারিবারিক খরচের একটি বড় অংশই চলে যাচ্ছে খাবারের পেছনে। একটি পরিবারের মাসিক মোট খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশই ব্যয় হয় খাবার কিনতে, যার পরিমাণ গড়ে ১০ হাজার ৬১৪ টাকা। এছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং আবাসন খাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য ব্যয়।

শহরাঞ্চলে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। তিন বছরের ব্যবধানে শহরের পরিবারগুলোর মাসিক গড় আয় কমলেও খরচ বেড়েছে। ২০২২ সালে যেখানে শহরের একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ৪৫ হাজার ৫৭৮ টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকায়। বিপরীতে, তাদের মাসিক খরচ ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামীণ পরিবারগুলোর আয় কিছুটা বেড়ে ২৯ হাজার ২০৫ টাকা হলেও তাদের খরচ ২৭ হাজার ১৬২ টাকা। সার্বিকভাবে, জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং খরচ ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা।ফলে সঞ্চয় প্রায় শূন্যের কোঠায়।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির পরিকল্পনায় এখন সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জিডিপির আলোচনার বাইরে গিয়ে সমতা, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক কল্যাণের মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।

গবেষণায় আরও কিছু নতুন ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী রোগের বোঝা বৃদ্ধি, নারীপ্রধান পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক দুর্বলতা, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং স্যানিটেশন সংকট।

হোসেন জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন যে, প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ এখনো অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহার করছে, যা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে একটি বড় বাধা।

কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, দেশে বেকারত্বের দুর্যোগ চলছে এবং এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এই গবেষণাটি গত মে মাসে ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জন সদস্যের মতামতের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

৫ আগস্ট বান্দরবানের ৪ পর্যটনকেন্দ্রে ফ্রি প্রবেশ

তীব্র গরমে ইংল্যান্ডে দুই মাসে প্রায় তিন হাজার মৃত্যু

পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নদীই এশিয়ার খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের চাবিকাঠি: এডিবি

সন্ধ্যার মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আশঙ্কা

realme Bringing Next C-Series Smartphone to Provide All-Day Power

সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিতে নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন নিয়ে আসছে রিয়েলমি

Australia provides another $25.25 million in aid for Rohingya

রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার আরও ২৫.২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা

দেশজুড়ে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশ-বিদেশে চাহিদা বাড়ায় পাট চাষে ফিরছে কৃষকের আস্থা

মোবাইল ছেড়ে মাঠে, কৃষি শিখছে টাঙ্গাইলের কলেজ শিক্ষার্থীরা

এক মাস দুই দিনে দেশে এলো ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স