ঢাকারবিবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

খাদ্যের বড় জোগান দিচ্ছে দিনাজপুর, এ সাফল্য কৃষকের: কৃষি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১১, ২০২৬ ২:২২ অপরাহ্ণ । ১৮৪ জন

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির মূল শক্তি দেশের কৃষক ও কৃষি গবেষণা ব্যবস্থা-এ কথা উল্লেখ করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের নশিপুরে বাংলাদেশ পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডাব্লিউএমআরআই) আয়োজিত কৃষকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে কৃষি সচিব নশিপুরের পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্রের পাটের বীজ উৎপাদন ক্ষেত পরিদর্শন করেন। পরে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল পাট ও পাটজাত আশ ও বীজ ফসলের উন্নত জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। একই দিনে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত গম বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এসব অনুষ্ঠানে সদর, কাহারোল, বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।

কৃষি সচিব বলেন, দেশে পাট উৎপাদন বাড়াতে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে পাট চাষের জন্য ব্যবহৃত বীজের একটি বড় অংশ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এই নির্ভরতা কমাতে এবং বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে নতুন নতুন পাটের জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা ও চরাঞ্চলসহ সব ধরনের পরিবেশ উপযোগী জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণ করে ভবিষ্যতে পাট রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাটকে পুনরায় একটি লাভজনক অর্থকরী ফসলে রূপ দিতে কৃষি মন্ত্রণালয় ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। পাটের আশের পাশাপাশি বীজ উৎপাদন করেও কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে পাটের গুরুত্ব অপরিসীম। এ কারণে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

গমের আবাদ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, বিজ্ঞানীরা গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত এবং সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। আগাছা দমনসহ ফলন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন লাগসই প্রযুক্তিও ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের গমের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই গম আবাদ বাড়াতে কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার প্রণোদনাসহ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। উন্নত জাত নির্বাচন, বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদন, রোগ-বালাই ও সংরক্ষণ পদ্ধতি বিষয়ে কৃষকদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. মাহফুজ বাজ্জাজ, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গিস আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডলসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা।