প্রজাপতি প্রকৃতির অন্যতম সৃজনশীল ও বর্ণিল উপহার। গ্রীষ্মমন্ডলীয় অরণ্য থেকে শুরু করে নানা আবাসস্থলে বিস্তৃত এই ডানাওয়ালা প্রাণীগুলি শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পরাগায়ন ও বাস্তুতন্ত্রের সুস্থতার নির্দেশক হিসেবে প্রজাপতিদের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় ও আবাসস্থল হারিয়ে ফেলার কারণে আজ অনেক সুন্দর প্রজাতি হুমকির মুখে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (WWF)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
নিচে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ৯টি প্রজাপতির তালিকা তুলে ধরা হলো-
১. নীল মরফো (Blue Morpho)

মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্টে পাওয়া যায় এই প্রজাপতি। ইন্দ্রজালিক নীল ডানার ঝিকিমিকি এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর ডানার রঙ আসলে আলো প্রতিফলনের ফলে সৃষ্টি হয়। ডানার বিস্তার ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।
২. কাঁচের ডানা (Glasswing Butterfly)

মধ্য আমেরিকার রেইনফরেস্টের বাসিন্দা এই প্রজাপতির ডানাগুলি স্বচ্ছ কাচের মতো। সূক্ষ্ম শিরাযুক্ত এই ডানাগুলি তাকে ভিন্ন ধরনের সৌন্দর্য দেয় এবং শিকারীদের কাছ থেকে সুরক্ষা দেয়।
৩. মোনার্ক (Monarch Butterfly)

বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রজাপতি। উত্তর আমেরিকা থেকে হাজার মাইল দূরত্বে বার্ষিক অভিবাসনের জন্য বিখ্যাত। কমলা ও কালো ডানার উজ্জ্বল নকশা শিকারীদের সতর্ক করে দেয় যে এটি বিষাক্ত।
৪. ইউলিসিস (Ulysses Butterfly)

অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যে পাওয়া যায়। উড়ার সময় এর বৈদ্যুতিক-নীল ডানা ঝলমলে নীলকান্তমণির মতো দেখায়। তবে নিচের অংশ কালো, যা বিশ্রামের সময় ভালো ছদ্মবেশ প্রদান করে।
৫. আশি-আশি (Eighty-eight Butterfly)

মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রজাপতিটি ডানার নিচে থাকা অনন্য “88” বা “89” প্যাটার্নের জন্য খ্যাত। এই ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য তাকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।
৬. পান্না সোয়ালোটেল (Emerald Swallowtail)

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সুন্দর প্রজাপতি। কালো ডানায় ধাতব সবুজের চকচকে ব্যান্ড গয়নার মতো মনে হয়। আকারে বড় হওয়ায় এটি সংগ্রাহক ও প্রজাপতি প্রেমীদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।
৭. পেঁচা প্রজাপতি (Owl Butterfly)

মেক্সিকো থেকে দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যে পাওয়া যায়। এর ডানায় বিশাল “চোখের দাগ” পেঁচার চোখের মতো দেখতে, যা শিকারীদের ভয় দেখাতে সাহায্য করে।
৮. রাজা ব্রুকের পাখির ডানা (Rajah Brooke’s Birdwing)

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই প্রজাপতিকে সহজেই চেনা যায় কালো ও বৈদ্যুতিক-সবুজ ডানার জন্য। এটি মালয়েশিয়ার জাতীয় প্রজাপতি হিসেবেও স্বীকৃত।
৯. ময়ূর প্রজাপতি (Peacock Butterfly)

ইউরোপ ও এশিয়াজুড়ে পাওয়া যায় এই প্রজাতি। ডানায় চোখের মতো বড় বড় দাগ শিকারীদের ভড়কে দেয়। সৌন্দর্য ও প্রতিরক্ষা কৌশল মিলিয়ে এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
প্রজাপতিরা প্রকৃতির সূক্ষ্ম শিল্পের অনন্য নিদর্শন। নীল মরফোর ঝিকিমিকি, মোনার্কের অভিবাসন কিংবা পেঁচা প্রজাপতির চোখের দাগ-প্রতিটি বৈশিষ্ট্য আমাদের বিস্মিত করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এদের অস্তিত্ব আজ ঝুঁকির মুখে। পৃথিবীর প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় প্রজাপতির আবাসস্থল সংরক্ষণ তাই এখন সময়ের দাবি।


