ঢাকাশনিবার , ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

ই-সিগারেট নিষিদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থান চায় তামাকবিরোধী জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১:০৪ অপরাহ্ণ । ২৪ জন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ই-সিগারেট নিষিদ্ধে সক্রিয় অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)। সংগঠনটির মতে, ই-সিগারেট বৈধ করা হলে তা তরুণদের মধ্যে নেশার প্রবণতা বাড়াবে, যা সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া নীতির পরিপন্থি।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশসমূহ পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর ই-সিগারেট আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ধারাটি সংশোধনের সুপারিশ করেছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশে তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট জানায়, বাংলাদেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। তবুও ‘কম ক্ষতিকর’, ‘ধূমপান ত্যাগে সহায়ক’ এবং ‘প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য’—এমন প্রচারণার মাধ্যমে একটি বাজার তৈরির চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, এ ধরনের নেশাজাত পণ্য বাজারে প্রবেশ করলে তরুণরা নতুন করে আসক্তির ঝুঁকিতে পড়বে।

সংগঠনটি আরও জানায়, সরকার ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হিসেবে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (NRT) ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ অবস্থায় নতুন নেশাজাত পণ্য বাজারে আনা সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগের পরিপন্থি।

বাটা বলছে, ই-সিগারেট কোনোভাবেই কম ক্ষতিকর বা নিরাপদ নয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত, এটি আসক্তি সৃষ্টি করে এবং ফুসফুসের ক্ষতি ছাড়াও হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ জাতীয় পণ্যকে সিগারেটের বিকল্প, ধূমপান ছাড়ার উপায় বা কম ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা যায় না।

সংগঠনটির মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সীমিতভাবে বিক্রির বিষয়টি বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব নয়। কারণ দেশে সিগারেটই প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বিক্রয় নিশ্চিত করা কঠিন, সেখানে ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ আরও চ্যালেঞ্জিং হবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫.৩ শতাংশ। তামাকজনিত কারণে বছরে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ অবস্থায় নতুন করে ই-সিগারেট বৈধ করা হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করবে বলে মনে করছে তামাকবিরোধী জোট।

তারা আরও জানায়, মহামান্য আপিল বিভাগের সিভিল আপিল নং ২০৪-২০৫/২০০১ মামলায় ২০১৬ সালের ১ মার্চ প্রদত্ত রায়ে দেশে তামাকের ব্যবহার কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন কোনো তামাকজাত পণ্যের অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। ই-সিগারেট বৈধ করা হলে সেই রায়েরও পরিপন্থি হবে।

সংগঠনটি বলছে, ব্যবসায়ীদের কথায় প্রভাবিত না হয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা এবং ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে এমন দেশগুলোর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করা উচিত।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ই-সিগারেট নিষিদ্ধে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখা এবং দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে।