ঢাকাবুধবার , ১১ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

বিএনটিটিপি’র ওয়েবিনার

তামাক নিয়ন্ত্রণের অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১১, ২০২৬ ২:৩৩ অপরাহ্ণ । ৭ জন

দেশে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তামাকজনিত রোগে মৃত্যুর হার বেড়েছে। সম্প্রতি টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্যানুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার মানুষ তামাকের কারণে মৃত্যুবরণ করছে। একইসঙ্গে তামাকজনিত রোগে ব্যয় হচ্ছে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাক খাত থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে পরিণত করার কোনো বিকল্প নেই।

আজ বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১.০০টায় ‘জাতীয় অর্থনীতিতে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রভাব’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারের অর্থনীতিবীদ, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর ট্যোবাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) অনলাইন মিটিং প্লাটফর্ম জুমে এ ওয়েবিনারে আয়োজন করে।

ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক; ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক জাহিদুল কাইয়ূম এবং একাত্তর টেলিভিশনের প্লানিং এডিটর ও গবেষক সুশান্ত সিনহা। ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপি’র প্রজেক্ট ডিরেক্টর হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং সঞ্চালনা করেন বিএনটিটিপি’র সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিল।

ওয়েবিনারে মূল বক্তব্যে হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, গত একুশ বছরে তামাক থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় ১৬ গুণ এবং প্রতি বছরের রাজস্ব আয় পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে বেশি ছিলো। ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন বা ২০১৩ সালে আইন সংশোধনের পরও এসব বছরগুলোতে রাজস্ব বৃদ্ধির ধারা অব্যহত ছিলো। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো যখনই মূল্য, কর হার বৃদ্ধি ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয় তখনই রাজস্ব কমে যাওয়া ও সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্যের গল্প প্রচার করে। অথচ এনবিআরের আটককৃত শীর্ষ ১০ পণ্যের তালিকায় সিগারেট নেই। গবেষণা সংস্থা আর্ক ফাউন্ডেশনের এক গবেষণাতে দেখা গেছে, দেশে অবৈধ সিগারেটের বাজার মাত্র ৫.৪ শতাংশ। দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণের অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার দাবি জানাই।

বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে সুশান্ত সিনহা বলেন, দেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপের মৃত্যুর হার বৃদ্ধির পরও তুলনামূলকভাবে রাজস্ব কম এসেছে। এর প্রধান কারণ বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যথেষ্ট শক্তিশালী না এবং তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ। ইতোমধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের জারি হওয়া অধ্যাদেশ বাতিল ঠেকাতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করছে তামাক কোম্পানি। বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। সরকারের উচিৎ তাদের কথা আমলে না নিয়ে জনস্বার্থে অতিদ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা এবং একটি টেকসই তামাক কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি কমপ্রিহেন্সিভ তামাক কর নীতি প্রণয়ন করা

ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ দীর্ঘদিন থেকে চলছে। কিন্তু তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ, প্রোপাগান্ডার কারণে সেটা বিলম্বিত হচ্ছে। সববাধা পেরিয়ে আইনের একটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। ফলে জনস্বাস্থ্য, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের পক্ষে আমাদের আহ্বান হলো সরকার যাতে দ্রুত অধ্যাদেশটি আইনটি পরিণত করে। তাহলে অনেক মানুষকে প্রাণহানি থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে। ব্যবসার চেয়ে মানুষের জীবনকে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। কারণ ইতোমধ্যেই আমরা জনস্বাস্থ্যে অনেক পিছিয়ে গিয়েছি এবং তামাকজনিত রোগে চিকিংসা ব্যয় ও মৃত্যু বেড়ে গেছে।

অধ্যাপক জাহিদুল কাইয়ূম বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ অত্যন্ত জরুরি। কারণ তরুণদের টার্গেট করেই তামাক কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসার মডেল তৈরি করেছে। দেশে প্রত্যক্ষ ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির কারণেই তামাকজনিত রোগের মৃত্যু বেড়েছে। তরুণরা যাতে ধূমপায়ী না হতে পারে সেই লক্ষে তামাক নিয়ন্ত্রণের জারি হওয়া অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় অর্ধশত প্রতিনিধিবৃন্দ এ ওয়েবিনার অংশগ্রহণ করেন।