ঢাকাবুধবার , ৭ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

কেনিয়ায় প্রথম ইবোলা আক্রান্তের মৃত্যু, শনাক্ত ২৮ সংস্পর্শ ব্যক্তি

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ বিকাল

Link Copied!

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) একটি প্রদেশে ইবোলার প্রকোপ বাড়ার মধ্যেই কেনিয়ায় প্রথম ইবোলা আক্রান্তের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। শনিবার ডিআরসি থেকে দেশে ফিরে আসা এক নাগরিকের মৃত্যুর পর তাঁর সংস্পর্শে আসা ২৮ জনকে শনাক্ত করেছে কেনিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডেন ডুয়ালে দেশটিতে প্রথম ইবোলা আক্রান্তের মৃত্যুর কথা জানান। তিনি বলেন, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সাত বছর ধরে ডিআরসিতে বসবাস করছিলেন। দেশে ফেরার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরীক্ষায় ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।

নাম প্রকাশ না করা ওই ব্যক্তি প্রায় এক মাস আগে অসুস্থ হয়ে ডিআরসিতে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। পরে স্থলপথে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় যান এবং সেখান থেকে ৩ অক্টোবর বিমানে নাইরোবিতে পৌঁছান।

নাইরোবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক আত্মীয় ও এক বন্ধু তাঁকে নাইরোবির একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে আইসোলেশনে রাখা হয়। তাঁর শরীরে জ্বর, কাঁপুনি, তীব্র ক্লান্তি, দুর্বলতা, পেশিতে ব্যথা, ঢোক গিলতে কষ্ট, গলা ব্যথা এবং ইনজেকশনের স্থানে ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা যায়।

পরীক্ষায় ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ডুয়ালে বলেন, মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ২৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। এখন পর্যন্ত আর কারও পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসেনি। একই ফ্লাইটে থাকা আরও ২৩ যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্যকেও খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও প্রস্তুত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোগটির বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফনের’ পরিকল্পনাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কেনিয়ায় এর আগে কখনো ইবোলা আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়নি। তবে প্রতিবেশী উগান্ডায় এর আগে ২০ জন আক্রান্ত এবং দুজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। আক্রান্তদের প্রায় সবাই ডিআরসি থেকে ভ্রমণ করেছিলেন। পরে আগস্টে উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে ডিআরসিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মে মাসে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এটি দেশটিতে ভাইরাসটির ১৭তম প্রাদুর্ভাব। ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) স্ট্রেইনে আক্রান্ত ৮ হাজার ৪৬৩ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।

ডিআরসির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে শুরু হওয়ার পর বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সাতটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত, কর্তৃপক্ষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় সম্পদের ঘাটতি—সব মিলিয়ে দেশটিতে ইবোলা মোকাবিলা কঠিন হয়ে উঠেছে।

চিকিৎসা সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ‘মেদিসিন সঁ ফ্রঁতিয়ের’ (এমএসএফ) সোমবার সতর্ক করেছে, উগান্ডা সীমান্তবর্তী পূর্বাঞ্চলীয় নর্থ কিভু প্রদেশে ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, আগস্টের শেষে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নর্থ কিভুর হার ছিল ২৪ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বুটেম্বো শহরে এমএসএফের ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্রের সমন্বয়কারী স্টেফানি হফম্যান পরিস্থিতিকে ‘বিশাল দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন তীব্রতায় একাধিক প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।

এমএসএফ জানিয়েছে, বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত বুটেম্বো স্বাস্থ্য অঞ্চলে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। অথচ সেখানে ইবোলা চিকিৎসার কেন্দ্র রয়েছে মাত্র চারটি, যার মধ্যে দুটি সম্প্রতি চালু হয়েছে।

হফম্যান বলেন, পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক সময় নিশ্চিতভাবে ইবোলায় আক্রান্ত রোগীদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে। এতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ের কিছু চিকিৎসাকেন্দ্রে ইবোলা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড সবসময় পূরণ হচ্ছে না।

সংঘাতের কারণে নর্থ কিভু বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ‘আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা’ নামের পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্যমতে, গত এক মাসে সেখানে ১৩৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির অন্য যেকোনো প্রদেশের তুলনায় বেশি।

এদিকে, নাইরোবি থেকে প্রায় ১২৫ মাইল দূরের লাইকিপিয়া বিমানঘাঁটিতে ইবোলা চিকিৎসার একটি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও এ বছরের শুরুতে কেনিয়ায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

দখলমুক্ত মিরপুর-১০, ফুটপাতে ফিরেছে স্বস্তি

গ্যাসকে পেছনে ফেলে এশিয়ার জ্বালানি মানচিত্রে শীর্ষে এখন সৌরবিদ্যুৎ

সড়ক দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় ভূমিকা রাখছে স্বেচ্ছাসেবকরা

ল্যাবরেটরির নিঃসঙ্গ রাত থেকে বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসারথের নোবেলের জয়

দেশে শব্দদূষণ কমাতে ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ

রাজশাহীতে ৪৮৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, বরাদ্দ ২৮৯ টন চাল

মৎস্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় বন্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান

২২ জেলায় গড়ে উঠছে ‘শিশু স্বর্গ’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য-পরিচ্ছন্নতায় ইউনিলিভার-ফ্রেন্ডশিপের নতুন উদ্যোগ

শিশুদের শৈশব নিরাপদ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার আহ্বান ডা. জুবাইদার

সৈকতে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি দেখতে টুভালুতে বিশ্বনেতারা