
ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার নতুন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিমান চলাচল খাতে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার পর বুধবার কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে ইরানি এয়ারলাইনগুলো।
তেহরানের এক ট্রাভেল এজেন্ট এএফপিকে জানান, বাগদাদ, মাসকট, কাতার, জর্জিয়া ও আজারবাইজানের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। তবে চীনসহ আরও কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার নতুন পদক্ষেপগুলোর ঘোষণা দেন। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
তবে ইরানের বিমান চলাচল খাত দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ প্রভাব কী হবে এবং অন্যান্য দেশ তা কতটা কার্যকর করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বুধবার নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের তেহরান থেকে একটি ফ্লাইট চীনের গুয়াংজুতে অবতরণ করেছে। চীন মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে এবং এগুলোকে অবৈধ মনে করে।
তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটও ছাড়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ইস্তাম্বুলগামী কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচি ছিল, যদিও কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেহরানের ওই ট্রাভেল এজেন্ট বলেন, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ায় এবং ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কায় তারা আপাতত টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে, কাবুল থেকে মাহান এয়ারের একটি ফ্লাইটও বুধবার দুপুরের দিকে তেহরানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ছোট ইরানি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ায় কিছু ফ্লাইট চলাচল সম্ভব ছিল। এসব এয়ারলাইনের মধ্যে ভরেশও রয়েছে। ইরাকের নাজাফ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইগামী ফ্লাইটের সময়সূচিও ছিল।
সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট ইরানের বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে ‘বন্ধ করে দেওয়ার’ এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি অন্য দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, এসব বিমান অবতরণ করলে তাদের জ্বালানি, অবতরণসেবা বা টিকিট বিক্রির সুযোগ দেওয়া যাবে না। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।
নতুন বিধিনিষেধের ফলে ইরানিদের বিদেশ ভ্রমণ এবং দেশে ফেরার সুযোগ আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।
ইরানের গণমাধ্যমগুলোও ফ্লাইট বাতিলের খবর জানিয়েছে। তাসনিম বার্তা সংস্থা মঙ্গলবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, বাগদাদ ও মাসকটের বিমানবন্দরগুলো ইরানের ফ্লাইট আর গ্রহণ করবে না। তবে ইস্তাম্বুলসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে জানানো হয়।
তাসনিম আরও জানায়, বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলো নাজাফে পুনর্নির্দেশ করার বিষয়ে ইরানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আলোচনা করছে। ইরানি তীর্থযাত্রীদের জন্য নাজাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
ইরাক সরকার প্রকাশ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা না করলেও একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাসহ কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বাগদাদ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মেনে চলবে।
এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল স্থগিত হওয়ার আশঙ্কায় ইরাকের ট্রাভেল এজেন্টদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাজাফের ট্রাভেল এজেন্ট হায়দার শামা বলেন, শহরের অধিকাংশ ভ্রমণ কোম্পানি ইরানের বিমানবন্দরগামী ফ্লাইটের টিকিট বুকিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।
বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, উদ্বিগ্ন যাত্রীরা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য জানতে ফোন করছেন। অনেকে বিমান চলাচল ব্যাহত হলে স্থলপথে যাতায়াতের কথা ভাবছেন, যদিও এতে ভ্রমণে অনেক বেশি সময় লাগবে।