ঢাকাশনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ খাদ্য

নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৬ সকাল

Link Copied!

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও সংগ্রহ করবে সংস্থাটি।

টিসিবি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় বাজার এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহ তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে টিসিবি একটি ক্রয় পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনা হবে।

মজুত ও সরবরাহে নজরদারি

টিসিবি জানিয়েছে, ভোক্তাদের মধ্যে নিত্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা পণ্যের সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে টিসিবির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিজস্ব গুদামের ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামের ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।

টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ বলেন, বর্তমানে সংস্থাটির মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। বাজারে নিত্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

ভর্তুকি কমিয়ে কম দামে পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা

সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে দ্রুত সাড়া দিতে পারে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি জানান, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি। ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও টিসিবি পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করে।

বাড়ছে পণ্যের তালিকা

ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদও তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে সরবরাহ করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, নতুন কোনো পণ্য যুক্ত করার আগে ভোক্তাদের চাহিদা জানতে জরিপ করা হবে। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের তালিকা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে পণ্যের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড

বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করছে সংস্থাটি।

ফয়সল আজাদ বলেন, স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা একটি চলমান প্রক্রিয়া। মৃত্যু, স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত, নাম বাদ বা পরিবর্তন হতে পারে।

স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে টিসিবির সরবরাহব্যবস্থা

টিসিবির সরবরাহব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে পণ্য কেনার পর ভোক্তারা লেনদেনের রসিদ পাবেন।

পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

টিসিবির চেয়ারম্যান জানান, সংস্থাটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি সরকারি কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।

নিজস্ব গুদাম বাড়ানোর উদ্যোগ

ভবিষ্যতে পণ্য মজুতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এতে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমবে।

ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্য ক্রয় এবং বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে লজিস্টিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের তালিকা বাড়ানোই টিসিবির মূল লক্ষ্য। মানুষের জীবনকে সহজ করতে সংস্থাটি কাজ করছে।

তথ্যসুত্র: বাসস

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

টিসিবির কার্যক্রমে ডিজিটাল রূপান্তর, সাশ্রয় হবে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা

দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণ করবে সরকার

চীনে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধার ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, সম্ভাব্য নাম ‘অর্নব’

‘সমন্বিত জলবায়ু পদক্ষেপ’ রক্ষা করতে পারে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ

২০২৬ সালের ১২ সিনেমায় ৭৫১ বার দেখানো হয় ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য

রাজস্ব বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন জরুরি

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কুষ্টিয়ায় ফের বিএটিবি কর্মীদের মানববন্ধন

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি ও জনবলে শক্তিশালী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

হাওরে হাঁস চড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

টিসিবির কার্যক্রমে আসছে ডিজিটাল নজরদারি, বাদ ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী

আগামী মাসে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত