ঢাকাবুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ খাদ্য

প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য ‘সতর্কতা’ চিহ্ন দেয়ার উদ্যোগেও কোম্পানির বিরোধীতা!

প্রতিবেদক
ইব্রাহীম খলিল
২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৬:৫৩ বিকাল

Link Copied!

চিপস, বিস্কুট, কোমল পানীয়সহ সবধরনের প্যাকেটজাত খাবারে বেশি চিনি, লবণ বা চর্বি থাকলে প্যাকেটের বিভিন্ন ধরনের ‘সতর্কতা’ চিহ্ন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। মানুষ যেন দোকানে দাঁড়িয়ে বা প্যাকেট দেখে সহজেই বুঝতে পারে, কোন খাবারটায় বাড়তি চিনি-লবণ-চর্বি আছে। বিএফএসএ প্রণীত খসড়া ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় প্রস্তাবিত ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) এর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ নীতিমালা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাদ্যপণ্যের মোড়কে কালো অষ্টভুজাকার ‘সতর্কতা’ চিহ্ন বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দেশীয় ও বিদেশী বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী আপত্তি জানিয়েছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই কাঠামোকে রেগুলেটরি দ্বৈততা, অবাস্তবসম্মত থ্রেশহোল্ড এবং শিল্পের জন্য ক্ষতিকর বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় দেশটির একটি প্রতিষ্ঠান দুই দফায় ই-মেইলে বিএসটিআইকে জানিয়েছে এই নিয়ম বা খসড়া সম্পর্কে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে ঠিকমতো জানানো হয়নি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পানীয় শিল্প সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশনস (আইসিবিএ) পৃথকভাবে আপত্তি জানিয়েছে।

ফলে প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কমূলক ‘ওয়ার্নিং লেবেল’ রাখবে, নাকি চাপে পড়ে সেটা দূর্বল কোনো মডেলের দারস্থ হবে? এই সিদ্ধান্ত কীভাবে ও কার স্বার্থে নেওয়া হবে?

প্রবিধানমালাটি আসলে কী বলছে

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খসড়া প্রবিধানমালার তফসিল-১ অনুযায়ী, মোড়কজাত খাদ্যে প্রতি ১০০ ক্যালরিতে নিম্নের নিয়ম অনুযায়ী উপাদান থাকতে হবে।

টেবিলে দেয়া মান অনুযায়ী যদি খাদ্যের উপাদানে সীমা অতিক্রম করে তাহলে প্যাকেটের সামনের দিকে কালো-সাদা রঙের অষ্টভুজ চিহ্ন দিতে হবে, তাতে লেখা থাকবে ‘সতর্কতা : অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি/লবণ/চর্বিযুক্ত খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’। প্যাকেট যত বড়, চিহ্নও তত বড় হতে হবে। ছবিগুলো কালো রঙের অষ্টভুজাকৃতি বক্সের ভেতরে সাদা প্রতীকে দিতে হবে, যাতে ভোক্তা সহজেই বুঝতে পারেন। তবে দুধ, রান্নার তেল, তাজা ফল-সবজির মতো কিছু জিনিস এই নিয়মের বাইরে থাকবে। আইনটা গেজেটে প্রকাশ হওয়ার ছয় মাস পর কার্যকর হওয়ার কথা।

এই মডেলটা মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলো (চিলি, মেক্সিকো) যেভাবে করেছে, তার মতো — কড়া, সরাসরি সতর্কতা। এটা ইউরোপ বা এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে চালু থাকা গাইডলাইন ডেইলি অ্যামাউন্ট ‘জিডিএ’ পদ্ধতির (যেখানে শুধু সংখ্যা দিয়ে দৈনিক চাহিদার শতাংশ বোঝানো হয়) চেয়ে বেশি কার্যকর এবং অনেক বেশি কড়া।

অসংক্রামক রোগের হার ৭১ শতাংশ, এফওপিল কার্যকরের বিকল্প নেই

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ও চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ দেশে রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। ফলে সব ধরনের প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কে ওয়ার্নিং লেবেল কার্যকরের কোনো বিকল্প নেই।

অন্যদিকে দেশে চিনি জাতীয় খাবার ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণের কারণেও অসংক্রামক রোগের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ৪৮ শতাংশ স্কুল শিক্ষার্থী ও ৯৫.৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী চিনিযুক্ত সফট ড্রিংকস গ্রহণ করে। প্রতিদিন কেউ এসব পানীয় বা চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে বছরে তার ওজন ৫ পাউন্ড বেড়ে যায়। পাশাপাশি তাদের টাইপ টু ডায়বেটিসের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলে চিনিযুক্ত খাবার মানব স্বাস্থ্যের মারাত্বক ঝুঁকি করছে।

চিনি, লবণ, চর্বি জাতীয় খাবার, পানীয় মোড়ক ও বোতলে ওয়ার্নিং লেবেল যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। এতে জনস্বাস্থ্যে যে বিপর্যয় শুরু হয়েছে সেটা কিছুটা হলেও কমে আসবে। কারণ বাংলাদেশের প্রস্তাবিত এফওপিএলে ওয়ার্নিং লেবেল প্রবিধান এ জন্যই কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এফওপিএলের উদ্দেশ্য হলো—১. ভোক্তাকে সহজ, দৃশ্যমান ও বোধগম্য পুষ্টি তথ্য প্রদান; ২. অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাদ্য দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করা; ৩. অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ নিরুৎসাহিত করা; এবং স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করা।

সিএলপিএ এর হেড অব প্রোগ্রাম আমিনুল ইসলাম বকুল বলেন, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা এবং শুধু ওষুধ, হাসপাতাল ও ক্লিনিকনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়; রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে। একজন মানুষ খাদ্য কেনার আগে যেন সহজেই বুঝতে পারেন তিনি কী খাচ্ছেন, এফওপিএল সেই সুযোগ তৈরি করবে। এটি শুধু জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়, মানুষের জানার অধিকার ও মানবাধিকারের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তবে এ প্রবিধিমালায় লবণ ও চিনির কথা বলা হলেও আর্টিফিশিয়াল সল্ট ও আর্টিফিশিয়াল সুগার, স্যাকারিনকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। ফলে খসড়া প্রবিধিমালায় বিষয়গুলো যুক্ত করার সুপারিশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।  সিনিয়র নীতি বিশ্লেষক কামরুন্নিসা মুন্না বলেন, খসড়া প্রবিধিমালায় ওয়ার্নিং লেবেলের ক্ষেত্রে লবণ ও চিনির কথা বলা হয়েছে। আমরা লবণের পরিবর্তে সোডিয়াম উল্লেখ করার সুপারিশ করেছি। সোডিয়াম দিলে সেখানে লবণ ও যেকোনো ধরনের আর্টিফিশিয়াল লবণ এর আওতায় চলে আসবে। এছাড়া সুপারিশে স্যাকারিন বা আর্টিফিশিয়াল সুগারকেও সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভিত্তিহীন আপত্তি

প্যাকেটজাত খাদ্যদ্রব্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন দেয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে যে চিঠি দিয়েছে সেখানে পাঁচটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাবগুলো হলো, ১. ওয়ার্নিং লেবেলের বদলে জিডিএ মডেল চালু করা; ২. অন্তত ৫ বছর এই নিয়ম ঐচ্ছিক (মানতেই হবে এমন নয়) রাখা; ৩. ছোট প্যাকেটকে পুরোপুরি ছাডড় দেওয়া; ৪. Codex ও BSTI-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এবং ৫. চূড়ান্ত করার আগে শিল্পগোষ্ঠী, বিএসটিআই ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যৌথ আলোচনা সভা করা।

চিঠিতে এমসিসিআই দাবি করেছে, চিনি-লবণ-চর্বির যে সীমা ঠিক করা হয়েছে সেটা বাংলাদেশের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে যায় না। এত কড়া সীমা রাখলে বাজারের বেশিরভাগ চেনা-পরিচিত খাবারও ‘ক্ষতিকর’ চিহ্নের আওতায় চলে আসতে পারে — যেটা ক্রেতাদের মধ্যে অহেতুক ভয় বা ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।

তারা আরও দাবি করেছে, প্যাকেজিং বদলানো, রেসিপি বদলানো (রিফরমুলেশন), নতুন নিয়ম মানার খরচ — এসব ছোট-মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা চিহ্ন দিতে আপত্তি এমসিসিআই-এর

জনস্বাস্থ্যকে আমলে না নিয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এ ধরনের প্রস্তাব ও দাবি অত্যন্ত ভয়াবহ। ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তারা জনস্বাস্থ্যকে ধ্বংস করতে চায়। প্যাকেট ছোটো হোক বা বড়ো হোক, সেটাতে উপাদানসমূহের তালিকা ও মাত্রা এবং স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন থাকবে এটা স্বাভাবিক। যেকোনো পর্যায়ে ভোক্তাদের সেটা দেখে খাওয়া ও না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। অন্যদিকে ছোটো ছোটো প্যাকেটের খাদ্য সাধারণত শিশুরা বেশি ক্রয় করে। ফলে কোন যুক্তিতে তারা এটাতে দ্বিমত করছে সেটা বোধগম্য নয় বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুশান্ত সিনহা।

তিনি আরও বলেন, এমসিসিআই এই স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন দেয়ার বিষয়ে ৫ বছর সময় চায় কীভাবে? সরকার বাজেট ঘোষণার পরদিনই সবকিছু কার্যকর হয়। ফলে তাদের প্রস্তাব ও দাবি ভিত্তিহীন। নাগরিকের নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো রাষ্ট্র কোনো ধরনের আপোষ করতে পারে না। আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনড় অবস্থানের প্রশংসা করছি এবং তাদের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

অন্যদিকে সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স-এর সিনিয়র নীতি বিশ্লেষক কামরুন্নিসা মুন্না বলেন, বাংলাদেশে ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ বা যেকোনো উৎসব আসলে এক সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়ক, এসএসবি পণ্যের বোতলের স্টিকার পরিবর্তন করে ফেলে কোম্পানিগুলো। কিন্তু ফলে ব্যবসায়ীক কারণে যদি এক সপ্তাহের মধ্যে তারা ব্যাপকভাবে বাজারে নতুন মোড়কের পণ্য নিয়ে আসতে পারে তাহলে তাদের ৫ বছর লাগবে কেনো? এটা কোনোভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়। একইসঙ্গে নতুন মোড়ক ছাপানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা বলা হলেও সেটাও অমূলক। দেশের জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় তাদের কথিত ক্ষতি কোনোভাবে উর্ধ্বে না।

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি কেনো অমূলক

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড সংস্থা এনআইএসটি দুইবার — ২৩ জুন আর ২ জুলাই ২০২৬-এ ই-মেইল পাঠিয়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা চিহ্ন দেয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ৩টি বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। ১. নতুন খসড়াটা এখনো ডব্লিউটিও-এর TBT কমিটিতে জানানো (নোটিফাই করা) হয়নি — যেটা তাদের মতে ডব্লিউটিও’র নিয়মের সঙ্গে যায় না। ২. আগের একটা সংস্করণ ২০২৩ সালে অন্য এক কমিটিতে জানানো হয়েছিল, কিন্তু এখনকার খসড়ায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে — বিশেষ করে নতুন ওয়ার্নিং লেবেল আর সময়সীমার নিয়ম — তাই আগের নোটিফিকেশন যথেষ্ট কি না। এবং ৩. আন্তর্জাতিক পানীয় শিল্প সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশনস যে আলাদাভাবে তাদের আপত্তি জানিয়েছে সেটা মনে করিয়ে দিয়েছে।

তারা মূলত মূলত বাংলাদেশের কাছে ৪টি প্রস্তাব দিয়েছে। ১. খসড়াটা ডব্লিউটিও-তে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো এবং মন্তব্য জমা দেওয়ার জন্য অন্তত ৬০ দিন সময় দেওয়া; ২. আগ্রহী পক্ষগুলোর মতামত শোনার আগে প্রবিধিমালার নিয়মটা চূড়ান্ত করা না; ৩. মানিয়ে নেওয়ার জন্য ৬ মাসের [যদিও সরকার পরে ১ বছর সময় দিয়েছে] বদলে আরও বেশি সময় দেওয়া; এবং ৪. প্যাকেজিং আর লেবেল ছাপানোর বাস্তবতা মাথায় রেখে ২৪ মাস সময় দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের এসব আপত্তি দেখে সহজেই অনুমান করা যায় এসব অন্য কারো মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে দেয়া হয়েছে। কোনো পণ্যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য কোনো দেশের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা থেকে পূর্ব অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিটি দেশ তার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাধীনভাবে নীতি বা নিয়ম তৈরি করার পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার রাখে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালাতেও একই বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে সরকার প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কে যে স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা সঠিক আছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, প্রবিধানমালায় প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন দেয়া, উপাদানসমূহের মাত্রার তালিকা দেয়াসহ যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও বিএসটিআইয়ের সামনে কোনো বাঁধা নেই। কিছু ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তজার্তিক প্রতিষ্ঠান যেসব দাবি ও প্রস্তাব দিয়েছে সেগুলোও ভিত্তিহীন। নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেটা দেশের সংবিধান সেই অধিকার দিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালাতেও বলা হয়েছে যেকোনো রাষ্ট্র স্বাস্থ্য বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ফলে আমরা আশা করছি সরকার দ্রুতই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করবে।

চাপ সত্ত্বেও অন্য দেশগুলোর বাস্তবায়ন কৌশল

গত ১৫ বছরে অন্তত ১০টা দেশ এরকম কড়া ওয়ার্নিং লেবেল আনতে গিয়ে ডব্লিউটিও-তে আপত্তির মুখে পড়েছে। এটা কোনো মামলা বা রায় নয়। সদস্য দেশগুলো নিজেদের উদ্বেগ জানিয়েছে মাত্র। কিন্তু তারপরও  অনেক দেশ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব উদ্বেগকে পাত্তা না দিয়ে সবধরনের প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন যুক্ত করেছে।

যেসব দেশ আপত্তি সত্ত্বেও নিয়ম টিকিয়ে রেখেছে

এসব দেশ নিয়ম টিকিয়ে রাখতে মূলত পাঁচটা কাজ করেছে। তারা স্পষ্টভাবে বলেছে এটা কেন জনস্বাস্থ্যের জন্য দরকার, প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছিল কেন সহজ বিকল্প যথেষ্ট নয়, দেশি-বিদেশি সব পণ্যে সমান নিয়ম প্রয়োগ করেছিল, আন্তর্জাতিক মানের (Codex/WHO) সঙ্গে সংগতি দেখিয়েছিল, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে সময়মতো জানিয়ে, প্রকৃত মতামত শুনে, তারপর নিয়মটা চূড়ান্ত করেছিল।

এক্ষেত্রে চিলি ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলো ডব্লিউটিও’র চাপ সত্ত্বেও ৫টি সুনির্দিষ্ট পন্থা অনুসরণ করে তাদের ওয়ার্নিং লেবেল কাঠামো ধরে রেখেছে। এই ৫টি বিষয় হলো, ১. স্পষ্ট জনস্বাস্থ্য উদ্দেশ্য সংজ্ঞায়ন; ২. প্রমাণভিত্তিক ও প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা (বিকল্প ব্যবস্থা কেন যথেষ্ট নয়, তার যুক্তি); ৩. দেশি-বিদেশি পণ্যে একই পদ্ধতি প্রয়োগ; ৪. আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা ও নিজস্ব প্রমাণ দিয়ে ব্যতিক্রম যুক্তিসংগত করা; এবং ৫. স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত বাস্তবায়ন।

কেনো জিডিএ ও ট্রাফিক লাইট সতর্কতার পরিবর্তে সতর্কতা চিহ্ন জরুরি

জিডিএ বা ‘প্রতি পরিবেশনে দৈনিক নির্দেশিত গ্রহণমাত্রা’ একটি তথ্যনির্ভর ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা। যেখানে কোনো খাদ্যপণ্যে থাকা চিনি, সোডিয়াম, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ক্যালোরি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক গ্রহণমাত্রার কত শতাংশ পূরণ করছে তুলে ধরা হয়। এই তথ্য সঠিকভাবে বুঝতে হলে ভোক্তাকে পরিবেশনের আকার, দৈনিক পুষ্টি চাহিদা, শতাংশের অর্থ এবং তিনি বাস্তবে কতটুকু খাবেন—এসব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ফলে জিডিএ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে তুলনামূলকভাবে উচ্চ মাত্রার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি-সাক্ষরতা, সংখ্যাগত তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা এবং লেবেল পড়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। সবার আগে তাকে শিক্ষিত হতে হবে।

কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ ধরনের জটিল তথ্যভিত্তিক লেবেল অধিকাংশ ভোক্তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা কঠিন। দেশে সাক্ষরতার হারও কম। অনেক ভোক্তা প্যাকেটজাত খাদ্য কেনার সময় খুব অল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া অনেক খাদ্যপণ্যের একটি প্যাকেটে একাধিক পরিবেশন থাকলেও ভোক্তা প্রায়ই পুরো প্যাকেটই একবারে গ্রহণ করেন। ফলে প্রতি পরিবেশনের ভিত্তিতে প্রদর্শিত জিডিএ তথ্য প্রকৃত গ্রহণমাত্রাকে প্রতিফলিত করে না এবং ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। পশ্চিমা অনেক দেশে স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন দেয়ার পরিবর্তে জিডিএ বা ট্রাফিক লাইট পদ্ধতি ব্যবহার করে। কিন্তু এগুলো সেসব দেশের বাস্তবতায় ঠিক হলেও আমাদের দেশের জন্য উপযোগী না বলে জানিয়েছেন সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স-এর সিনিয়র নীতি বিশ্লেষক কামরুন্নিসা মুন্না।

তিনি বলেন, জিডিএ ও ট্রাফিক লাইট সতর্কতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধাজনক ও কার্যকর নয়। আমরা সংখ্যা বুঝি না। কোনটা কত শতাংশ বেশি হলে খারাপ বা ক্ষতিকর সেটাও সবাই পড়ে বুঝতে পারবে না। কিন্তু এদেশের মানুষ সংখ্যা বোঝে। ছবির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন দেয়া হলে অক্ষরহীন মানুষও সেটা বুঝতে পারবে। ফলে আমাদের দেশের মানুষের জন্য যেটা সুবিধা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য যেটা ইতিবাচক সেটাই বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সতর্কতা চিহ্ন জনস্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও নীতিগত মূল্যায়নেও দেখা গেছে জিডিএ’র তুলনায় সতর্কতা চিহ্ন ভোক্তার পণ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা  বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার আগ্রহ কমানোর ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর।

২০২৩ সালে গুয়াতেমালায় পরিচালিত একটি র‌্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল্ড গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়ার্নিং লেবেল ব্যবহারকারীরা জিডিএ ব্যবহারকারীদের তুলনায় খাদ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার ইচ্ছা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে জিডিএ বিশেষ করে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয় গোষ্ঠীতেই তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর ছিল, কারণ এটি বুঝতে বেশি সময় ও মানসিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয়।

ক্ষুদ্র মোড়কে ওয়ার্নিং লেবেলে আপোষ নয়

দেশের ব্যবসায়ীদের সংগঠন এমসিসিআই বিশেষভাবে ক্ষুদ্র মোড়কে ওয়ার্নিং লেবেল দেয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র মোড়কের পণ্যকে এফওপিএল থেকে অব্যাহতি দিলে নীতিমালার জনস্বাস্থ্যগত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে ১০, ২০ বা ৩০ টাকার ছোট প্যাকেটের চিপস, বিস্কুট, চকলেট, কোমল পানীয় এবং অন্যান্য আল্ট্রা প্রসেস খাদ্য শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও সহজলভ্য। এই পণ্যগুলো কম দামের হওয়ায় তাৎক্ষণিক ক্রয়ের প্রবণতা বেশি এবং এগুলো প্রায়ই বিদ্যালয়ের আশেপাশে, ছোট দোকান ও রাস্তার খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যায়। ফলে উচ্চ চিনি, সোডিয়াম বা স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্যের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংস্পর্শে থাকে এই জনগোষ্ঠী। ঠিক এই কারণেই এফওপিএল’র মতো সতর্কীকরণ ব্যবস্থা তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

প্যাকেটজাত খাদ্যের ক্ষুদ্র মোড়কে ওয়ার্নিং লেবেল দিতে চায় না কোম্পানি

সিনিয়র নীতি বিশ্লেষক কামরুন্নিসা মুন্না বলেন, যদি ক্ষুদ্র আকৃতির মোড়ককে এফওপিএলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, তাহলে বাস্তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যগুলোই সতর্কীকরণ লেবেলবিহীন থাকবে। এতে শিশু, কিশোর এবং নিম্নআয়ের ভোক্তারা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য থেকে বঞ্চিত হবে এবং নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য—ভোক্তাকে সহজ, দৃশ্যমান ও তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদান ব্যাহত হবে। এর ফলে এফওপিএলের আচরণগত এবং জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ছোটো মোড়কের প্যাকেটজাত খাবারগুলো সাধারণত শিশু, তরুণ ও স্বল্প আয়ের মানুষ বেশি ক্রয় করে। ফলে প্রবিধিমালা থেকে যদি ছোট প্যাকেটের ওয়ার্নিং লেবেল বাদ দেয়া হয় তাহলে বিশাল অংশের মানুষ এর বাইরে থেকে যাবে। যা জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্বক প্রভাব ফেলবে। সুতরায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্ষুদ্র বা ছোটো মোড়কে ওয়ার্নিং লেবেল দেয়ার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই আপোষ করা যাবে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবনা

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মোঃ শিব্বির আহমেদ ওসমানী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংক্রামক রোগের কারণে প্রায় ৫ লক্ষ ৭০ হাজার ২৬৩ জন মানুষ মারা যায়। মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১% ঘটে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ থেকে, যার প্রায় অর্ধেকই অকাল মৃত্যু। বর্তমানে দেশের প্রতি ৪ জনে ১ জন উচ্চ রক্তচাপ এবং ১০ জনে ১ জন ডায়াবেটিসে ভুগছেন। প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের ফলে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বাড়ছে। বাজারে থাকা ২৫০ মিলি কোমল পানীয়তে ১০ থেকে ১২ চা চামচ চিনি থাকে, যা একজন প্রাপ্তবহাল মানুষের দৈনিক চাহিদার চেয়ে বহুগুণ বেশি।

তিনি আরও বলেন, দেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যে চিনি, লবণ ও ফ্যাট গ্রহণ কমানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কে চিনি, লবণ ও ফ্যাট গ্রহণ সম্পর্কিত সতর্কবার্তার বিষয়ে কাজ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিশু ও কিশোরদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্য লেবেল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং খাদ্যপণ্যের ওপর করনীতি, বিপণন নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যসংক্রান্ত তথ্য এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, দেশের একটি বড় অংশ স্বল্পশিক্ষিত বা সদ্যসাক্ষর হওয়ায় পুষ্টির জটিল বিবরণ পড়া ও বোঝা তাদের জন্য কঠিন। তাই প্যাকেটের গায়ে সহজ সংকেত বা প্রতীক  ব্যবহার করা উচিত। এটি কোনো পণ্য বর্জন বা ব্যবসা বন্ধের আন্দোলন নয়, বরং ক্রেতাকে নিজের ও সন্তানের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার সক্ষমতা দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণের সফল অভিজ্ঞতার আলোকে ফুড ইন্ডাস্ট্রিকেও বোঝানো সম্ভব যে, স্বাস্থ্যসম্মত লেবেল ব্যবহারে ব্যবসার ক্ষতি হয় না, বরং তাদের সুনাম ও পারস্পরিক সুস্থ প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। কারণ মনে রাখতে হবে, অসংক্রামক রোগের কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার পেছনে ব্যক্তিগত খরচ  আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৭৯% এ দাঁড়িয়েছে, যা পরিবারগুলোর ওপর প্রচণ্ড আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের হেড অব প্রোগ্রাম ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএনএফসি এর সাথে করা একটি র‌্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, মানুষের সহজে বোঝার জন্য ‘সতর্কবার্তা সম্বলিত লেবেল’ সবচেয়ে কার্যকর মডেল। কিন্তু খসড়া প্রবিধিমালা তৈরির সময় খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এটি বিলম্বিত করার জন্য নানা অজুহাত দেখিয়েছে। যেমন লেবেল প্যাকেটের সামনে না দিয়ে বোতলের ক্যাপে দেওয়ার প্রস্তাব কিংবা এই মডেলটি ল্যাটিন আমেরিকান খাবারের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে বাংলাদেশে অকার্যকর দাবি করা হয়। এছাড়া আমেরিকান ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে বাণিজ্য স্বার্থের চিঠি পাঠিয়ে চাপ দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে। তবে আমরা সরকারের অনড় অবস্থানের প্রশংসা করি। বর্তমানে নীতি নির্ধারণের যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবিধিমালাটি রয়েছে, তা যেন দুর্বল না করে যেভাবে খসড়া তৈরি হয়েছে সেভাবেই দ্রুত অনুমোদন করা জরুরি।

ইব্রাহীম খলিল, সাংবাদিক ও গবেষক।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর মৃত্যু ৪

শেরপুরে পাট কাটার ধুম, ৪০ কোটি টাকার ফলনের প্রত্যাশা

সন্ধ্যার মধ্যে চার অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

আড়াই লাখ কোটি টাকায় তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করবে পিডিবি

সিলেটের পর্যটন-চা ও শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের ৫ বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা

খিলক্ষেতে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

চাঁদপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২

চিরিরবন্দরে ধানখেতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু