ঢাকাসোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. মতামত

ইপিআর নির্দেশিকা ২০২৬ জারি, প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ইতিবাচক উদ্যোগ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৩:১৮ বিকাল

Link Copied!

প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা ও প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের দায়বদ্ধ করতে ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব নির্দেশিকা ২০২৬ জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি জারি করা এ নির্দেশিকা প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ইতিবাচক উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স-সিএলপিএ। একইসঙ্গে নির্দেশিকা জারির করায় মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে তারা। আজ রবিবার ( ২৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিএলপিএ মনে করে, প্লাস্টিক পণ্যের জীবনচক্র শেষে সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব শুধু সরকার বা সাধারণ জনগণের ওপর না রেখে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের ওপর অর্পণ করা ‘দূষণকারী দায় বহন করবে’ (Polluter Pays Principle) নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ। এর ফলে প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তকরণ ও নিবন্ধন, বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এবং বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিএলপিএ মনে করে, এসব ব্যবস্থা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্লাস্টিক দূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য নদী, খাল, জলাশয় ও সমুদ্রে প্রবেশের ফলে দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ক্ষতি সৃষ্টি হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদক ও বাজারজাতকারীদের তাদের পণ্যের ব্যবহার-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের আওতায় আনা একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ।

তবে সিএলপিএ মনে করে, নির্দেশিকা জারির পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এ কাজে নিয়োজিত অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সিএলপিএ আরও মনে করে, নির্দেশিকার বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা আরও উচ্চাভিলাষী করা এবং প্লাস্টিক দূষণ কমাতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। উৎপাদনকারী ও ব্র্যান্ড মালিকদের দায়িত্বশীল উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব নকশা এবং পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বাড়াতেও উৎসাহিত করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সরকার সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে ইপিআর নির্দেশিকা ২০২৬-এর কঠোর, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই ও চক্রাকার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

দেশব্যাপী হাতি জরিপ পরিচালনা করবে অরণ্যক ফাউন্ডেশন

বিশ্বের সেরা নতুন ভবনের স্বীকৃতি পেল রংপুরের ‘গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি’

আম-লিচু বাগানে প্রথমবারের মতো মিলল নতুন প্রজাতির ঝিঁঝিঁ পোকা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে দেশের রোল মডেল হতে পারে বরিশাল

পাট খাতে চীনের প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

Xiaomi Launches Xiaomi TV S Pro Mini LED and Xiaomi TV X Mini LED Series in Bangladesh

বাংলাদেশে শাওমি টিভি এস প্রো মিনি এলইডি ও শাওমি টিভি এক্স মিনি এলইডি নিয়ে এলো শাওমি

স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করছে সরকার

তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্তে স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ সরকারের

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৫৪

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১৯৫

সোনাইমুড়ীতে ট্রলির চাপায় মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু