
বাংলাদেশের রোগীদের জন্য মালয়েশিয়া একটি ভালো চিকিৎসা গন্তব্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহানা ওসমান। আগ্রহী বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিলের (এমএসটিসি) মাধ্যমে চিকিৎসা সহযোগিতা পেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
মালয়েশিয়ার চিকিৎসা খাতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে মালয়েশিয়া যথেষ্ট উন্নতি করেছে। একসময় কম্বোডিয়ার রোগীরা চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যেতেন। এখন তারা মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রোগীদের জন্যও মালয়েশিয়া একটি ভালো গন্তব্য হতে পারে। মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিলের (এমএসটিসি) মাধ্যমে আগ্রহী বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে পারেন।
মালয়েশিয়ার চিকিৎসাব্যবস্থার অগ্রগতির প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য মালয়েশিয়ায় কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন, লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসা খাতের বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা তুলে ধরে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকালে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কিছু শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় এবং মালয়েশিয়ার কিছু শিক্ষার্থী বাংলাদেশে এমবিবিএস, এমডিএস ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
হাইকমিশনার আরও জানান, মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার বিভিন্ন খরচ ও ওষুধের দাম প্রকাশ্যে বোর্ডে উল্লেখ করা থাকে। একই সঙ্গে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় সেখানে চিকিৎসা ব্যয়ও কম।
সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফর করবেন বলে জানান।
এ সময় ঢাকায় অবস্থিত মালয়েশিয়া হাইকমিশনের কর্মকর্তা, মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিলের কর্মকর্তারা, তাদের বাংলাদেশি অংশীদার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।