
ফেনীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনেই জেলায় ৬৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। অথচ বছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১০১ জনের। ফলে বছরের প্রথম সাত মাসে শনাক্ত রোগীর প্রায় ৬২ শতাংশই শনাক্ত হয়েছেন আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও সাতজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচজন, সোনাগাজীর একজন এবং ছাগলনাইয়ার একজন রয়েছেন।
বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ছয়জন, ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং সোনাগাজীতে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে ফেনী সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৯৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া দাগনভূঞায় ২৯, সোনাগাজীতে ১৯, ছাগলনাইয়ায় ১০, পরশুরামে আট এবং ফুলগাজীতে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ১৬৪ জনের। আক্রান্তদের অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর সংক্রমণও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ২৫ জন এবং আগস্টে ৪৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। বিপরীতে চলতি বছরের জুলাই মাসেই ৭২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আগস্টে সংক্রমণের হার আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফেনীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এএসএম সোহরাব আল হোসাইন বলেন, সম্প্রতি এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। এ জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জেলায় ডেঙ্গু পরীক্ষার কোনো সংকট নেই। বর্তমানে ৫০০টি পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে।