
দেশে জন্মগতভাবে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘ঢাকায় স্মাইল এশিয়ার ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডশিপ মেডিকেল মিশন’ উপলক্ষে আয়োজিত গালা ডিনারে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের উদ্যোগে স্মাইল এশিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি এবং সাজেদা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘নতুন হাসির অঙ্গীকারে’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ৬৯ জন ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুর বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, জন্মগতভাবে ঠোঁটকাটা বা তালুকাটা সমস্যা নিয়ে জন্মানো শিশুদের কষ্ট যে কাউকে আবেগাপ্লুত করে। তবে অভিজ্ঞ সার্জন, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও নার্সদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব শিশুর মুখে আবারও হাসি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি স্মাইল এশিয়া ও সাজেদা ফাউন্ডেশনকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা আবার বাংলাদেশে এলে সরকার এ উদ্যোগকে জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত করবে, যাতে আরও বৃহৎ পরিসরে দেশের মানুষ এ সেবা পেতে পারে।
অনুষ্ঠানে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতারও প্রশংসা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দেশীয় চিকিৎসকদের উদ্ভাবিত পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে ত্বক পৌঁছে দিয়ে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যাকবলিত ১১ জেলায় ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগ এবং সাপের কামড়ে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং চর্মরোগের ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান এরশাদ ফয়েজ, সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদা ফিজ্জা কবির, স্মাইল এশিয়ার মহাসচিব অভিমন্যু তালুকদার, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আ. রাজ্জাক সরকারসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।