
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ও কৃষি খাতে আরও বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪০ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এর বড় অংশ বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যয় হয়। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে সীমিত। দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষিখাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটের মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ কৃষিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, কৃষি ভর্তুকির একটি বড় অংশ প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে চলে যায়।
ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির সমালোচনা করে ড. মিজানুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতির বর্তমান বাস্তবতায় আয়সীমার সামান্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য তেমন স্বস্তি বয়ে আনবে না। বরং কর কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে অনেক করদাতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিআইজিএম) সহযোগী অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. জুবায়ের আহমেদ।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ড. জুবায়ের আহমেদের মতে, বর্তমান ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এক বছরের মধ্যে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। একইভাবে প্রায় ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে।
সেমিনারে বক্তারা রাজস্ব আদায়ের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ, সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক ও অবকাঠামোগত খাতে বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওআইআরডির চেয়ারম্যান ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব। এতে অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।