ঢাকাসোমবার , ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে ধানের জায়গা দখল করছে সয়াবিন, আবাদ বেড়েছে ২৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ । ২২ জন

বরিশাল অঞ্চলে ধানের পরিবর্তে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অর্থকরী ফসল সয়াবিন। কম উৎপাদন খরচ ও বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সয়াবিন চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে চলতি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদ বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশালের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ধানের বদলে সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। ইরি-বোরো ধানের পরিবর্তে কৃষকেরা সয়াবিন আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাতেই সয়াবিন চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে সয়াবিনের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরি-বোরো ও অন্যান্য রবি ফসলের আবাদ কমেছে প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ। দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততা সহনশীল এবং কম সেচনির্ভর হওয়ায় সয়াবিন এখন কৃষকদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।

বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আকরাম মৃধা জানান, ধানের তুলনায় সয়াবিন চাষে খরচ প্রায় অর্ধেক এবং পরিশ্রমও কম। একই কথা বলেন আরেক কৃষক আজিজ, যিনি জানান—নোয়াখালীর একদল ক্রেতা আগেভাগেই জমির সয়াবিন কিনে রাখেন, ফলে বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা কম থাকে।

লাভ-ক্ষতির হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি হেক্টরে ইরি-বোরো চাষে যেখানে ৮৫ থেকে ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়, সেখানে সয়াবিন চাষে বিনিয়োগ অনেক কম। বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হওয়ায় কৃষকেরা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন।

এছাড়া ইরি-বোরো ধান চাষে প্রতি মণে খরচ পড়ে ১৭০০ থেকে ১৯০০ টাকা, যা বিক্রি হয় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। বিপরীতে সয়াবিন চাষে প্রতি মণে খরচ ৭৫০ থেকে ১১০০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকায়।

বরিশাল সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, কৃষি এখন বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে এবং সয়াবিন চাষ দিন দিন বাড়ছে। তবে সয়াবিন চাষ বৃদ্ধির কারণে খাদ্য সংকট তৈরি হবে—এমন আশঙ্কার ভিত্তি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কৃষি অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রবি মৌসুমে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে তা বেড়ে প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টরে পৌঁছেছে।