ঢাকাশনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য
  3. মতামত

হাম বা মিজলস নিয়ে আতংক নয়, সতর্কতা জরুরি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৭ সকাল

Link Copied!

হাম সবাই চিনলেও কনফিউশান ও কম নয়। হাম এক ধরনের ভাইরাস জনিত রোগ। শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। বয়স্করা কম। সবাই শিশুদের নিয়ে ই চিন্তিত।

হামের লক্ষণ কি? কি?

-উচ্চ জ্বর

-কাশি, সর্দি, লালচোখ বা কনজাংটিভাইটিস।

-লালচে Rash – মুখ মন্ডল থেকে শুরু হয়ে শরীরে নামতে থাকে( জ্বরের ৩-৫ দিন পর)। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ২/১ সপ্তাহে সম্পূর্ণ নিরাময় হয়।

এটি ছোঁয়াচে?

এটি হাঁচি,কাশি কিম্বা লালা বা থুথু র মাধ্যমে ছড়ায়। মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় বলে একে airborn disease ও বলা হয়। খুব দ্রুত গতিতে এটি ছড়ায়। তবে স্বাস্থ্য বিধান মেনে চল্লে রেহাই মেলে। যেমন চিকিৎসকরা বা স্বাস্থ্য কর্মীরা রোগী স্পর্শ করে ই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন। তাছাড়া যাদের একবার হয়ে গেছে কিম্বা টিকা দেয়া আছে তারা নিরাপদ।

জটিলতা কি হতে পারে?

কিছু কিছু হাম জটিলতা আকার ধারণ করে । বিশেষ করে যে সব শিশু অপুষ্ট কিম্বা যেকোনো কারণে দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন তাদের ক্ষেত্রে হাম বা মিজলস জটিল হয়।

এসব শিশু ডায়রিয়া,কান পাকা, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়। এই সব জটিলতায় শিশুর প্রাণহানি ঘটে কিম্বা দেহ দীর্ঘ মেয়াদী শারীরিক অক্ষমতায় ভুগতে পারে। যেমন কান পাকা সহজে ভালো হয় না। চোখের দৃষ্টি শক্তি হীনতা ও হতে পারে।

আর সবচেয়ে ঝুঁকি হলো মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস হলে।এটির জন্য হসপিটালে ভর্তি হয়ে নিতে হবে।নিউমোনিয়া হলে ও হসপিটালে ভর্তি প্রয়োজন।

প্রতিরোধই উত্তম পন্থা

নিয়মিত টিকা দেয়ার মাধ্যমে হাম থেকে রেহাই মেলে। তবে এজন্য একটা দেশের প্রায় ৯৫% শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে।

টিকার ডোজ হলো দুটো – প্রথম ডোজ ৯ মাসে, দ্বিতীয় ডোজ ১৫-১৮ মাসে। বাংলাদেশের ইপিআই কর্মসূচিতে এই টিকা দেয়া হয়।

তবে দুঃখ জনক হলো করোনা মহামারী র পর থেকে আমাদের দেশে সকল টিকার সংকট দেখা দেয়। গ্লোবাল ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম থেকে আমাদের দেশে টিকা আসত। এই টিকার সিংহ ভাগ অর্থ যোগান দিত মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস। বিল গেটস এর সংসার ভাঙার সাথে সাথে এই তহবিলে ও টান পড়ে। ফলে গরীব দেশগুলোর টিকা কর্মসূচি ক্ষতির মুখে পড়ে।

করণীয় ছিল স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে শিশুদের সকল ধরনের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। গত কয়েক বছর, বিশেষ করে করোনা মহামারী পর থেকে সেই দিকে সরকার গুরুত্ব দেয়নি। বিশেষ করে গত উপদেষ্টা সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে বেশ হযবরল অবস্থা দেখা গেছে। গত কয়েক বছর যাবৎ টিকার যে সংকট সেটি বেড়ে গেছে বহুগুণ। আজকের এই হাম পরিস্থিতির উদ্ভবের পেছনে বিগত সরকার গুলোর দায়িত্বহীনতা অনেকাংশে দায়ী।

এই পরিস্থিতিতে করণীয়

দ্রুত টিকা সংগ্রহ করতে হবে। টিকা কাভারেজ র ঘাটতি পূরণ করতে স্পেশাল টিকা কর্মসূচী ঘোষণা করে সারা দেশে এক যোগে MR টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫% করতে হবে কমপক্ষে।

এতে সকল ধরনের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। হসপিটাল গুলোর সেবার মান উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।

মানব সম্পদ উন্নয়ন যদি বাজেট বক্তৃতার প্রথম লাইন হয় তবে সেই টা হবে বাজেটে জিডিপির কমপক্ষে ৫% স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা এবং দূর্নীতি রোধ করা।

খাবার দাবার

এই সময়ে অনেকে বাছা খেতে বলেন।এটা ঠিক নয়। শিশুকে সব ধরনের পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। মাছ মাংস ডিম, শাক সবজি ইত্যাদি অল্প অল্প বারে বারে দিতে হবে। কেবল যেটি আপনার শিশুর প্রতি এলার্জি সেটি বন্ধ রাখবেন।

চিকিৎসা

এক কথায় সিম্পটোমেটিক বা লক্ষন অনুযায়ী। সুনির্দিষ্ট কোন এন্টিবায়োটিক নাই। তবে জটিলতা হলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ঔষধ চলবে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো।

লেখক : ডা সুশান্ত বড়ুয়া, শিশু বিশেষজ্ঞ, ফেনী ডায়াবেটিস হসপিটাল

 

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

টিসিবির কার্যক্রমে ডিজিটাল রূপান্তর, সাশ্রয় হবে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা

দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণ করবে সরকার

চীনে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধার ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, সম্ভাব্য নাম ‘অর্নব’

‘সমন্বিত জলবায়ু পদক্ষেপ’ রক্ষা করতে পারে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ

২০২৬ সালের ১২ সিনেমায় ৭৫১ বার দেখানো হয় ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য

রাজস্ব বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন জরুরি

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কুষ্টিয়ায় ফের বিএটিবি কর্মীদের মানববন্ধন

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি ও জনবলে শক্তিশালী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

হাওরে হাঁস চড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

টিসিবির কার্যক্রমে আসছে ডিজিটাল নজরদারি, বাদ ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী

আগামী মাসে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত