ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

১০ দিনে জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ১০০ টাকা বৃদ্ধি, চাপে এভিয়েশন খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৯, ২০২৬ ১:৪৭ অপরাহ্ণ । ০ জন

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে জেট ফুয়েলের মূল্য লিটারে প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় দেশের এভিয়েশন খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ব্যয়ের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিমান পরিচালনা ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশে জেট ফুয়েলের দাম গত ১০ দিনে দুই দফায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ১৯৪ টাকা ১৮ পয়সা, যা আগে ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ৮ মার্চ প্রথম দফায় মূল্য বৃদ্ধি করে তা ১১২ টাকা ৪১ পয়সা নির্ধারণ করে। পরবর্তীতে মাত্র ১০ দিনের মাথায় আবারও মূল্য বাড়িয়ে বর্তমান পর্যায়ে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রুটের জন্য জেট ফুয়েলের দামও বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ০.৬২৫৭ ডলার থেকে বেড়ে ১.২৬৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৫০ শতাংশই জেট ফুয়েলের পেছনে ব্যয় হয়। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধি পুরো এভিয়েশন শিল্পকে চাপে ফেলেছে।

জানা গেছে, জেট ফুয়েলের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির ফলে এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকে থাকতে ভাড়া বাড়ানোর পথে হাঁটতে হতে পারে। তবে ভাড়া বাড়ালে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই যাত্রী প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এছাড়া কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমানো বা বন্ধ করার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এতে দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো পরিবহনেও এর প্রভাব পড়বে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও নতুন এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত প্ল্যাটস রেট ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৭.১৯ ডলার, যা ৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮.৯৮ ডলারে।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভিয়েশন খাতকে টিকিয়ে রাখতে নীতিনির্ধারকদের ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে এয়ারলাইন্সগুলোকে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, জেট ফুয়েলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি খাত নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।