ঢাকাশনিবার , ১৪ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

অ্যামাজন জঙ্গল অভিযানে সালাহউদ্দীন সুমন ও নিলয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৪, ২০২৬ ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ । ৮ জন

বাংলাদেশি ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা সালাহউদ্দীন সুমন ও তার ভ্রমণ সহযাত্রী নিলয় কুমার বিশ্বাস এবার ব্রাজিলের অ্যামাজন রেইনফরেস্ট অভিযানে যোগ দিয়েছেন। তাদের যাত্রা শুরু হয় ব্রাজিলের মানাউস শহর থেকে। রোমাঞ্চকর এই অভিযানের আয়োজন করে অ্যামাজনকেন্দ্রীক ট্যুর এজেন্সি Amazon Gero Tours।

মানাউস থেকে তারা রিও নিগ্রো এবং রিও সলিমোয়েস নদীপথে যাত্রা শুরু করে প্রত্যক্ষ করেন ‘মিটিং অব দ্য ওয়াটারস’। এখানে রিও নিগ্রোর কালো পানি এবং রিও সলিমোয়েসের কিছুটা ঘোলাটে পানি পাশাপাশি প্রবাহিত হলেও একে অপরের সঙ্গে মিশে না। জলের রঙের তারতম্যের কারণে এখানে খুব সহজেই আলাদা করে চেনা যায় দুটি নদীকে।

মাটি ও বালুকণাবাহী ঘোলাটে জলের রিও সলিমোয়েস অ্যামাজন নদীর উপরের ভাগ বা আপার অ্যামাজন নামেও পরিচিত, যা এই মানাউসে এসে রিও নিগোর সাথে মিলিত হয়ে লোয়ার অ্যামাজন নামে প্রবাহিত হয়েছে।

এখানকার এই প্রাকৃতিক বিষ্ময় দেখতে সারা পৃথিবীর মানুষ এখানে ছুটে আসেন।

নদী পেরিয়ে অ্যামাজন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে তৈরি সড়ক পথে পাড়ি দেন প্রায় আড়াইঘণ্টার পর। এই পথের শেষের ১৭ কিলোমিটার ছিলো একেবারেই কাঁচা রাস্তা। সবুজের মাঝের লালচে মাটির আঁকাবাঁকা পথের সৌন্দর্য যে কারো ভালো লাগবে। মাঝে মাঝেই পথের ধারে দু’একটি মানব বসতি দেখতে পাওয়া যায়।

কাঁচা রাস্তা শেষ হয় অ্যামাজনের ভেতরে বয়ে চলা মামোরি নদী পাড়ে এসে। এখান থেকে ইঞ্জিনচালিত ছোট্ট নৌকায় চেপে তারা প্রবেশ করেন আরও গভীর জঙ্গলে। অভিযানের সময় সুমন ও নিলয় অ্যামাজনের ঘন অরণ্যে বিরল উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেখা পান।

মমোরি নদিতে তারা বেশকিছু ডলফিন দেখতে পান। তবে রিও নিগ্রোর পানিতে গোলাপি রঙের ডলফিনের সাথে সাঁতারের অভিজ্ঞতা তাদের অভিযানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

এছাড়া তারা কাইম্যান নামক বিশেষ প্রজাতির কুমিরের দেখা পান, অ্যামাজন রেইনফরেস্টের জলাশয়ে হরহামেশাই এদের দেখা যায়।

জীবনে প্রথম বারের মতো ধীরগতির প্রাণী শ্লথের দেখা পান তারা। তাদের এতোটাই ধীরে ধীরে চলাচল করে যে, দেখে মনে হবে স্লোমোশনে কোনো ভিডিও দেখছেন। শ্লথগুলো মানুষ দেখলে নিজেদের আড়াল করে। এরা গাছের সাথে এমনভাবে লেপ্টে থাকে, খুব ভালো করে খেয়াল না করলে কেউ বুঝতেই পারবে না এদের উপস্থিতি।

জঙ্গলে স্কুইরেল বানর, ক্যাপুচিন বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা পান তারা। অ্যামাজন নদীতে পিরারুকু মাছ দেখে তারা হতবাক হয়ে যান। এই মাছগুলো এখানকার নদীতে প্রাপ্ত সবথেকে বড় মাছ যার একেকটির ওজন ১৭০-২০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্থানীয় ভাষায় পিরা শব্দের অর্থ মাছ আর রুকু শব্দের অর্থ লাল। সেই হিসেবে পিরারুকু মানে হলো লাল মাছ তথা রেড ফিশ।

অভিযানের দ্বিতীয় দিনে জঙ্গেলে বেঁচে থাকার কৌশল শেখানো হয় তাদের। সাপে কাটলে কোন গাছের বাকল খেতে হবে আর কোন গাছ পানির যোগান দেবে তা দেখানো হয়। জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফেললে ব্রাজিলিয়ান নাট গাছের কান্ডে আঘাত করে শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে কিভাবে সংকেত তৈরি করা যায়, তাও শেখানো হয়। এ অভিযানে তাদের গাইড হিসেবে ছিলেন অভিজ্ঞ জঙ্গল গাইড মি. জেরো ও মি. মার্কো, যারা কয়েক দশক ধরে অ্যামাজনে পর্যটকদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন।

অভিযানের সময় তারা অ্যামাজনের অন্যতম পরিচিত মাছ পিরানহাও ধরেন, যা এই অঞ্চলের নদীপথে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। শুধু বরশি দিয়ে পিরানহা শিকারই নয়, রাতে তা বাংলাদেশী মশলায় তারা রান্না করেও খান।

এছাড়া অ্যামাজন জঙ্গলের স্থানীয় অধিবাসীদের বসতভিটা পরিদর্শন করেন তারা। আদিবাসীদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি এবং তাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও উপভোগ করেন।

এই অভিযান সম্পর্কে সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, অ্যামাজন ঘুরে দেখা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। তিনি বলেন, “আমি সবসময় চেয়েছি অ্যামাজন ঘুরে দেখতে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের সামনে এই রহস্যময় জঙ্গলকে তুলে ধরতে। অ্যামাজনের প্রাণ ,প্রকৃতি আমাকে যেমন বিস্মিত করেছে একইসাথে মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ করেছে।

অ্যামাজন নিয়ে বাংলা ভাষায় খুব বেশি কনটেন্ট নেই, অথচ মানুষের আগ্রহ অনেক। তাই আমি আমার দর্শকদের সাথে আমার অ্যামাজনে কাটানো বাস্তব অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করতে পারব ” অ্যামাজন অভিযানে এসে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত নিলয় কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই অ্যামাজন তাকে আকৃষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, “ অজস্র ডকুমেন্টারি দেখা এবং অ্যামাজন নিয়ে বিভিন্ন গল্প ,সিনেমার মাধ্যমে এই জায়গাটি আমার কল্পনায় বড় জায়গা করে নিয়েছিল। বাস্তবে এখানে আসতে পারা সত্যিই দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।”

Amazon Gero Tours এর মালিক জেরো বলেন, সুমন ও নিলয়কে আতিথ্য দিতে পেরে তারা আনন্দিত। তিনি বলেন, “যারা অ্যামাজনের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের গাইড করতে পারা আমাদের জন্য সবসময়ই আনন্দের।”

অ্যামাজন ভ্রমণটি সালাহউদ্দিন সুমনের দক্ষিণ আমেরিকা ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযানের অংশ। এই অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে তার্কিশ এয়ারলাইনস এবং ডট ইন্টারনেট ।