আগামী ৩ মার্চ আকাশপ্রেমীদের জন্য বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ। এদিন রাতের আকাশে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে খালি চোখে উপভোগ করা সম্ভব হবে। যদিও সাম্প্রতিক সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশে দেখা যায়নি, এবারের চন্দ্রগ্রহণ মাত্র কিছু সময়ের জন্য হলেও আকাশপ্রেমীদের মন মাতাবে।
চন্দ্রগ্রহণ কেন ঘটে?
চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই; সূর্যের আলো প্রতিফলিত হওয়ার মাধ্যমে চাঁদ উজ্জ্বল দেখায়। যখন পৃথিবী সূর্য এবং চাঁদের মধ্যে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। এই অবস্থাকেই বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে এবং আকাশে বিশেষ এক আভা সৃষ্টি হয়।
কেন একে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’?
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ একেবারেই কালো হয়ে যায় না। বরং গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। এটি ঘটে যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে ছড়িয়ে দেয়, নীল রঙ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু লাল রঙ চাঁদের ওপর পড়ে। ফলে গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে রক্তিম দেখায়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানে পরিচিত ‘ব্লাড মুন’ নামে।
বাংলাদেশে চন্দ্রগ্রহণ দেখার সময়সূচি
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ৩ মার্চ বাংলাদেশে বিকেল ৫টা ২৮ মিনিটে শুরু হবে।
পূর্ণগ্রাস পর্যায় শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে।
এরপর খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
মোট গ্রহণের সময়কাল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। সবচেয়ে নাটকীয় পূর্ণগ্রাস পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ধরে।
খালি চোখেই দেখা যাবে
চন্দ্রগ্রহণ দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাই সূর্যগ্রহণের মতো কোনো বিশেষ চশমা বা ফিল্টারের প্রয়োজন নেই। তবে মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে এই মহাজাগতিক দৃশ্য সবচেয়ে সুন্দরভাবে দেখা যাবে।


