ঢাকারবিবার , ১ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১, ২০২৬ ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ । ৭৯ জন

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও আধা-রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম Islamic Republic of Iran Broadcasting (আইআরআইবি) আজ সকালে জানায়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।” একই তথ্য নিশ্চিত করেছে আধা-রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Tasnim News Agency ও Fars News Agency।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ পাঁচটি শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার মধ্যেই তিনি নিহত হন। হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-ও এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। হামলার পাশাপাশি ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে সাইবার আক্রমণের কথাও জানানো হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান আশপাশের দেশ ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

একনজরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া খামেনি ১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র মৃত্যুর পর দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

তার নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) একটি শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে তিনি ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ নীতি জোরদার করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসকে রাষ্ট্রনীতির অংশে রূপ দেন।

২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচন, ২০২২ সালের নারী অধিকার আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট—তার শাসনামলে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় ইরান। তবুও তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দেশটির রাজনীতি, সামরিক কৌশল ও আঞ্চলিক প্রভাবের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন।

নতুন অনিশ্চয়তার শুরু

খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। একইসঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল—যার প্রভাব শুধু ইরানেই নয়, পুরো অঞ্চলে পড়তে পারে।