ঢাকাসোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

ভারতে বায়ুদূষণ: জনস্বাস্থ্য সংকট থেকে অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ ৪:৪৫ অপরাহ্ণ । ৫৮ জন

ভারতের রাজধানী দিল্লি-তে বায়ুদূষণ এখন মৌসুমি নয়, সারা বছরের সমস্যা। ২০২৪ সালে শহরটি একদিনও ভালো মানের বাতাস পায়নি। সরকারের নির্ধারিত সন্তোষজনক মানে ছিল মাত্র ৬৫ দিন।

দূষণের প্রভাব এখন ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। কলকাতা-তে ঐতিহাসিক হাওড়া ব্রিজ প্রায়ই ধোঁয়া ও কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে। মুম্বাই-এর দিগন্তরেখা ঝাপসা হয়ে যায়। এমনকি তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার দক্ষিণ ভারতেও বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার কারণে সূর্য ঢেকে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

কারণ ও প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাড়তে থাকা মোটরযান, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও নির্মাণখাতের বিস্তার এবং শহরের বাইরে ইটভাটার কার্যক্রম দূষণ বৃদ্ধির বড় কারণ।

স্বাস্থ্য সাময়িকী The Lancet-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতিবছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দূষণজনিত কারণে মারা যায়।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের World Economic Forum Annual Meeting-এ হার্ভার্ডের অর্থনীতিবিদ গিতা গোপিনাথ মন্তব্য করেন, দূষণের অর্থনৈতিক প্রভাব মার্কিন শুল্কের চেয়েও বেশি গুরুতর।

২০১৯ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Dalberg-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণের কারণে ভারতের বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতি জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ। অন্যদিকে Goldman Sachs অনুমান করেছিল, ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপিত হলেও ভারতের প্রবৃদ্ধি বছরে মাত্র ০.৬ শতাংশ কমতে পারত।

নীতিগত উদাসীনতা ও ব্যবসায়িক ক্ষতি
সমালোচকদের মতে, শুল্ক ইস্যুতে দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ দেখা গেলেও দূষণ ইস্যুতে তেমন সক্রিয়তা নেই। সম্প্রতি এক প্রতিমন্ত্রী সংসদে দাবি করেন, দূষণ ও মৃত্যু বা রোগের সরাসরি সম্পর্কের চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। ১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত বাজেটে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দও কমানো হয়েছে।

দূষণের প্রভাব এখন সরাসরি ব্যবসায়ও পড়ছে। খুচরা বিক্রেতা Shoppers Stop ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে বিক্রি কমার জন্য দূষণকে দায়ী করেছে। উত্তর ভারতে ভোক্তাদের চলাচল ও ব্যয় কমেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবছর শীতকালে উত্তর ভারতে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়, পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি ক্রীড়া আয়োজনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধূমপানের মতোই বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি অনেক সময় চোখে পড়ে না। কিন্তু এখন সেই ক্ষতি সরাসরি অর্থনীতিতে আঘাত হানছে। ভোগব্যয়, প্রবৃদ্ধি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ বানানোর লক্ষ্য—যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায়ই উল্লেখ করেন—সবই দূষণের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, এখনই কার্যকর নীতি গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট