আফগানিস্তানে টানা তিন দিনের তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১০ জন। দুর্যোগে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ৪৫৮টি বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আফগানিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএনডিএমএ) এসব তথ্য জানিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত মধ্য ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এএনডিএমএ জানায়, দুর্যোগে অন্তত ৩৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুষারপাত ও বৃষ্টির কারণে একাধিক প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বাড়ির ছাদ ধসে পড়া ও তুষারধসের কারণে। পাশাপাশি হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রার ফলে ঠান্ডাজনিত কারণেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রয়োজন ছাড়া তুষারাচ্ছন্ন সড়কে চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।
দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারের জরুরি বিভাগ জানায়, প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে ও নভেম্বরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে দুই হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে শীতকালীন দুর্যোগ দেশটির মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, ভূমিকম্প ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার শিশু বর্তমানে ঠান্ডাজনিত প্রাণঘাতী রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় চলতি বছরে আফগানিস্তানে অন্তত দুই কোটি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।


