মরণব্যাধি ও প্রাণঘাতী রোগের তালিকায় ক্যানসার অন্যতম। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতন জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ক্যানসার প্রতিরোধে ডায়েট হতে পারে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর অস্ত্র।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃতিতে এমন কিছু খাবার রয়েছে যা নিয়মিত খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। শরীর সুস্থ রাখতে এবং ক্যানসারের আশঙ্কা কমাতে নিচে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাবারের কথা তুলে ধরা হলো—
মাশরুম: ক্যানসার প্রতিরোধক খাবারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মাশরুম। এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের ক্ষতিকর কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন মাশরুম খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোলিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি: ব্রকোলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শর্ষেশাক ও মুলার মতো সবজি কোলিনসমৃদ্ধ এবং ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর। নিয়মিত এসব সবজি খেলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
এপিজেনিন যৌগসমৃদ্ধ খাবার: চেরি, আঙুর, আপেল, ধনেপাতা ও পার্সলে পাতায় থাকা এপিজেনিন যৌগ ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধে সহায়তা করে। চিকিৎসকদের মতে, এসব খাবার স্তন, প্রস্টেট, ফুসফুস, ত্বক ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: কিউয়ি, কমলালেবু, পাতিলেবু ও আঙুরে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিএনএ মেরামতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কেমোথেরাপির পর কিউয়ি ফল উপকারী বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গ্রিন টি: গ্রিন টিতে থাকা ইজিসিজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং কোষ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত গ্রিন টি পান ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
রসুন: রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামক উপাদান বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি ক্যানসার কোষ ধ্বংসে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করলে শরীরে ক্যানসারের বীজ সহজে বাসা বাঁধতে পারে না। তাই সুস্থ জীবনযাপন ও ক্যানসার প্রতিরোধে প্রতিদিনের ডায়েটে এসব খাবারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


