ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

তামাকজনিত মৃত্যু বছরে ২ লাখ, দ্রুত অধ্যাদেশ পাশের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২২, ২০২৬ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ । ১৫০ জন

তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি করলেও এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে দ্রুত সংসদে আইন হিসেবে পাশ করার দাবি উঠেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত আইন আকারে পাশ করার আহ্বান জানান বক্তারা। তারা বলেন, তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু রোধে এটি একটি সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রায় দুই লাখ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে সরকার সংশোধিত অধ্যাদেশটি পাশ করেছে, তবে এর কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে আইন হিসেবে পাশ করা জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে দেশের মোট ব্যয় ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিবেশগত ক্ষতির ব্যয় মোট ব্যয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ। একই বছরে তামাকজাত পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের তুলনায় দুই গুণেরও কম। ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ব্যয় কমাতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, তামাক হার্ট অ্যাটাকসহ নানা প্রাণঘাতী হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা জানান, অধ্যাদেশটি সংসদে আইন আকারে পাশ করাতে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তারা আইন মন্ত্রণালয়কে বিল আকারে অধ্যাদেশটি সংসদে উত্থাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডেন্টিস্ট্রি অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থা, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির পরিচালক মো. সুরাতুজ্জামান, লাইট হাউস অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা ওয়াহিদা ইয়াসমিন, সাবেক সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. তাসনিম লস্কর, ডব্লিউবিবি’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান, উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।