ঢাকামঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

২০২৬ সাল হতে পারে চরম উষ্ণ বছরের একটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৪:০৯ অপরাহ্ণ । ২৩৮ জন

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণতা মানবসভ্যতা, প্রকৃতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডার সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সাল বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ চারটি বছরের একটি হয়ে উঠতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জলবায়ু সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়কাল (১৮৫০–১৯০০) এর তুলনায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩৫ থেকে ১ দশমিক ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে প্রায় ১২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গুরুত্বপূর্ণ সীমা ছাড়িয়ে যাবে।

বিজ্ঞানীরা জানান, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। পাশাপাশি ২০২৩–২৪ সালে সংঘটিত শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়া ঘটনাও সাম্প্রতিক অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

উল্লেখ্য, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এবং সম্ভব হলে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও কোনো একক বছরে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করাকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হয় না, তবে বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি স্পষ্ট ও উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়লে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এনভায়রনমেন্ট কানাডার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকবে, যা টানা ১৩তম বছর হতে যাচ্ছে। একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা বার্কলে আর্থ।