ঢাকারবিবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৃক্ষরোপণ গ্রামীণ সমাজের সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত: ফরিদা আখতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১১, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ । ১৪০ জন

বৃক্ষরোপণ কেবল পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি নয়, বরং গ্রামীণ সমাজের সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নারীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত—এমন মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দায়িত্বশীল উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক সংকট তৈরি করছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘এক টাকায় বৃক্ষরোপণ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান আর্থ ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মানুষ আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সম্মান অর্জন করেছেন। পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত অঙ্গীকার কতটা গভীর হতে পারে, তার উদাহরণ টেনে তিনি কেনিয়ার নোবেল বিজয়ী পরিবেশকর্মী ওয়াঙ্গারি মাথাইয়ের কথা উল্লেখ করেন। ফরিদা আখতার বলেন, মাথাই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব জীবনধারার প্রতিশ্রুতি বহন করেছেন এবং কচুরিপানা দিয়ে তৈরি বায়োডিগ্রেডেবল কফিনে সমাহিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে গেছেন, যা পরিবেশ সচেতনতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

হাওড় অঞ্চলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করচ ও হিজলের মতো দেশীয় জলজ বৃক্ষ নির্বিচারে কেটে ফেলার ফলে হাওড়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও মাছের আবাস ধ্বংস হচ্ছে। কৃষি রক্ষার নামে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ পানি প্রবাহ ব্যাহত করছে, যা মাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় দায়িত্বহীন পর্যটনের কঠোর সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য বর্জ্য মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি তৈরি করছে। এ ধরনের আচরণকে তিনি সরাসরি ‘অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শিল্পদূষণ প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অনেক কারখানায় ইটিপি কার্যকরভাবে ব্যবহার না করায় শীতলক্ষ্যা নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এর প্রভাব পুরো মেঘনা অববাহিকায় পড়ছে এবং ইলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ মাছের প্রজনন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

সমুদ্রে মাছ আহরণে সোনার প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। উপদেষ্টা জানান, দেশে প্রায় ২৩৫টি শিল্প ট্রলারের মধ্যে অন্তত ৭০টিতে সোনার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মাধ্যমে নির্বিচারে সব প্রজাতির মাছ ধরা হচ্ছে। এতে বহু প্রজাতির মাছ টিকে থাকার সুযোগ পাচ্ছে না। সাম্প্রতিক জরিপে বাংলাদেশের সমুদ্রে ৪৭৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫টি প্রজাতি বিশ্বে একেবারেই অনন্য। এ সম্পদ ধ্বংসের ঝুঁকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভেনামি চিংড়ি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি বিদেশি ও ইনভেসিভ প্রজাতি, যা দেশীয় গলদা ও বাগদা চিংড়ির জন্য মারাত্মক হুমকি। বাণিজ্যিক চাপ থাকলেও দেশীয় প্রজাতির ক্ষতি হয়-এমন কোনো অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘এক টাকায় বৃক্ষরোপণ’-এর প্রেসিডেন্ট শেখ আবদুল্লাহ ইয়াসিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আজিম পাটোয়ারী। প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নূর মোহাম্মাদ আজামী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর শরীফ জামিলসহ অন্যান্য পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।