ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

গেজেট প্রকাশ: ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৩৯ বিকাল

Link Copied!

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন আরও কঠোর করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত অধ্যাদেশে ২০০৫ সালের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যাপক সংশোধনী আনা হয়েছে। এতে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট (HTP) ও নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ই-সিগারেট ও ভ্যাপ উৎপাদন-বিক্রি নিষিদ্ধ

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, ই-লিকুইড, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট এবং এ ধরনের যেকোনো ডিভাইসের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিপণন, বিজ্ঞাপন ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কোম্পানি হলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রি নিষিদ্ধ

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিশু পার্ক ও খেলাধুলার স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না। এই বিধান ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে, পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে জরিমানা দ্বিগুণ হবে।

পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ অপরাধে জরিমানা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন, প্রদর্শন ও CSR নিষিদ্ধ

নতুন অধ্যাদেশে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সিনেমা, নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)–এর নামে তামাক কোম্পানির নাম, লোগো বা ব্র্যান্ড ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্যাকেটে ৭৫ শতাংশ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক

তামাকজাত দ্রব্যের সব প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও লেখাসহ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ছাপানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ও কুইটলাইন নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং চালু

অধ্যাদেশে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ব্যতীত তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্যাকেটের আকার, ওজন, পরিমাণ ও অন্যান্য তথ্য বিধি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অধ্যাদেশ বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তরুণ ও শিশুদের নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু

কৃষকের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Tourism Fair Concludes with Tk 43 Crore in Business Over Three Days

তিন দিনে ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা, শেষ হলো পর্যটন মেলা