
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম শহীদ তাজউদ্দিন পার্কে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে ফুটবল টাফসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ করে মাঠ, পার্ক ভাড়া দেয়ার ক্ষমতা দিয়ে সাথে চুক্তি করেছিল। সরকার পরিবর্তন হলে বর্তমান প্রশাসন গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের সাথে একই ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে এবং নতুন করে দখলের উদ্দেশ্যে বৃক্ষ সেবা ও ছাদবাগান সহায়তা কেন্দ্র গ্রীন সেভারর্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে অনুমোদন দিয়েছে বলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশ ও সংস্কৃতিককর্মী, সাংবাদিকসহ ১১ বিশিষ্টজন।
আজ বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলনের ব্যানারে এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ১১ জন হলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, তেঁতুলতলা মাঠ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দা রতনা, সিটিজেন নেটওয়ার্কের নির্বাহী আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব ও নাঈম উল হাসান, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সম্পাদক এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংবাদিক সুশান্ত কুমার সিনহা, সেভ ধানমন্ডি প্লেগ্রাউন্ডসের সংগঠক সৈয়দ ইসতিয়াক আহমেদ, সংস্কৃতি কর্মী ও তথ্য অধিকার বিশেষজ্ঞ হামিদুল ইসলাম হিল্লোল ও মাঠ, পার্ক, জলাধার রক্ষা আন্দোলনের সদস্য ইব্রাহীম খলিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খেলা ও বিনোদনের মাঠ, পার্কে এ ধরনের স্থাপনা নির্মানের মাধ্যমে নাগরিকদের বিনোদনের স্থান সংকুচিত করা হচ্ছে। বৃক্ষ সেবা ও ছাদবাগান সহায়তা কেন্দ্র করার জন্য অবশ্যই জায়গা দেয়া যেতে পারে, তবে তা কোনভাবেই পার্ক বা খেলার মাঠের অভ্যন্তরে নয়। অবিলম্বে এই সকল অবৈধ চুক্তি বাতিল করে আদালতের নির্দেশনা ও মাঠ পার্ক জলাধার আইন অনুসারে মাঠ পার্ক ব্যবস্থাপনা করতে হবে। একই সাথে বিবৃতিতে শিশুদের খেলার অধিকারহরণ করে শহীদ তাজউদ্দিন পার্ক গুলশান ইয়ুথ ক্লাব এবং গ্রীন সেভারর্স-র ব্যবসায়িক স্বার্থে তুলে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব দখলের কারণে উক্ত পার্কে শিশু-কিশোরদের বিনামূল্যে এবং বিনাবাধার খেলার স্থান সংকুচিত হয়েছে। ক্লাবের উদ্যোগে মাঠে নানা স্থাপনা করা হচ্ছে। পরিবেশকর্মীরা গত আগস্ট মাসে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে স্বাক্ষাৎ করে, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের অনিয়মের বিষয়ে অবহিত করে। প্রশাসক এ সকল বিষয় আমলে নিয়ে সমাধানে অশ্বাস দিলেও, সমাধান না করে নতুন করে একটি প্রতিষ্ঠানকে স্থাপনা করার অনুমোদন দিয়েছে। বিগত দিনের মতো নাগরিকদের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি না করে নতুন করে দখলে ধরনের কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। বিগত দিনের মতো প্রশাসক ও ডিএনসিসি-র কর্মকর্তা রাষ্ট্রের আইন ও আদালতের নির্দেশনা কীভাবে ভঙ্গ করার সাহস পায় তা বিস্ময়ের।
বিবৃতিতে মাঠ পার্ক খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান আইনে ধারা ৫ এর কথা স্মরণ করিয়ে বলা হয়েছে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যতীত, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার হিসাবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনভাবে ব্যবহার করা যাবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাবে না৷ সুপ্রিম কোর্ট-র আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট মাঠ, পার্ক ইজারা বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ এবং একই সাথে মাঠ, পার্ক বাণিজিক ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং মাষ্টার প্লান বর্হিভুত স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশনা প্রদান করে। ডিএনসিসি আইন আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গুলশান ইয়ুথ ক্লারে সাথে চুক্তি করেছিল এবং সম্প্রতি নতুন করে গ্রীন সেভারর্স নামক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করেছে। আমরা সরকারকে ডিএনসিসি-র এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানাই। একই সাথে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠান মাঠ ও পার্কটি শিশুদের জন্য বিনামুল্যে উম্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানাই।