
বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যদের গতকাল বুধবার (২১ মে ২০২৫) অবস্থান কর্মসূচির ১৫৮তম দিনে একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ‘পান্থকুঞ্জ মোকদ্দমা : জনগণ বনাম অন্তর্বর্তী সরকার’ শীর্ষক একটি গণশুনানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব, নাঈম উল হাসান সহ বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সৈয়দ মুহাম্মদ জাকির, ওয়ালিদ সাদ্দাম, শাহ নেওয়াজ সৈকত, আহাদুল সিরাজ, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, আইনজীবী ও নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ ও বিআইপির সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান উপস্থিত ছিলেন।
১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচির ১১তম দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক ও সেতু উপদেষ্টা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পান্থকুঞ্জ জনউদ্যানে এসে অতিসত্বর এই বিষয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে একটি মিটিং করার প্রতিশ্রুতি দেন। আন্দোলনের প্রায় পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও উপদেষ্টাদের নিকট হতে এই বিষয়ে কোন উদ্যোগ দেখা যায় নি। পরবর্তীতে অবস্থান কর্মসূচির ১৪৩ তম দিনে পান্থকুঞ্জ ও হাতিরঝিল ধ্বংসকারী ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বাতিল এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য,অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, জনভোগান্তি, হতাহতের ঘটনা, স্বেচ্ছাচারিতা ও দূর্নীতি উদঘাটনে তদন্ত কমিশন গঠন করার দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা এবং উপরোক্ত তিনজন উপদেষ্টা বরাবর চিঠি প্রেরণ করা হয়।
প্রেরিত চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও উক্ত বিষয়ে কোন সদুত্তর না পাওয়ায় এই প্রকল্প প্রণয়নে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে কিনা, প্রকল্পটি জনস্বার্থ বিরোধী কিনা, প্রকল্পের কারণে স্থানীয় পরিবেশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা, স্থানীয় নারী শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ এর ফলে বঞ্চিত হবেন কিনা, এতে নগরের যানজট বাড়বে কিনা, এবং ঢাকার এই গুরুত্বপুর্ন উদ্যানটি রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে কিনা, সেই বিষয়ে একটি উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।
উক্ত গনশুনানিতে বিচারক হিসেবে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ, আইন বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, সমাজবিজ্ঞানী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। স্থানীয় মানুষ ও সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে ভিত্তিতে এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের সাপেক্ষে এই গণশুনানিতে প্রকাশ্য রায় ও সব পক্ষের করণীয় প্রস্তাব করা হবে।