ঢাকামঙ্গলবার , ১০ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ১৩ কোটির বেশি শিশুর জন্ম: শীর্ষে ভারত, তালিকায় বাংলাদেশও

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১০, ২০২৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ । ১ জন

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ২৩ লাখ শিশু জন্ম নিয়েছে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের ‘World Population Prospects 2024’ প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব প্রকাশ করেছে ডেটা প্ল্যাটফর্ম Our World in Data ও Visual Capitalist।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনসংখ্যা বেশি এবং তুলনামূলকভাবে উচ্চ জন্মহারের কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতেই সবচেয়ে বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

জন্মসংখ্যায় শীর্ষে ভারত

প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জন্মসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটিতে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন, যেখানে প্রায় ৮৭ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া, যেখানে প্রায় ৭৬ লাখ শিশু জন্ম নিয়েছে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে সম্ভাব্য জন্মসংখ্যার ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ দেশ হলো:

১. ভারত: তালিকার শীর্ষে
২০২৫ সালে জন্মসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে এককভাবে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, এ বছর দেশটিতে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার (২৩.০৭ মিলিয়ন) শিশুর জন্ম হয়েছে। বিশাল জনসংখ্যা এবং প্রজনন হারের স্থিতিশীলতার কারণে ভারত বৈশ্বিক জনতাত্ত্বিক কাঠামোতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

২. চীন: দ্বিতীয় অবস্থানে ধীরগতি
এক সময়ের জনবহুলতম দেশ চীন বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালে চীনে প্রায় ৮৭ লাখ ১০ হাজার (৮.৭১ মিলিয়ন) শিশুর জন্ম হয়েছে। পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো চীনেও জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শ্রমশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

৩. নাইজেরিয়া: আফ্রিকার প্রতিনিধি
আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া শীর্ষস্থানে রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার (৭.৬৪ মিলিয়ন) শিশু জন্ম নিয়েছে। তরুণ জনগোষ্ঠীর আধিক্য এবং উচ্চ জন্মহারের কারণে নাইজেরিয়া ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।

৪. পাকিস্তান: দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান শক্তি
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরেই রয়েছে পাকিস্তান। ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রায় ৬৯ লাখ ১০ হাজার (৬.৯১ মিলিয়ন) নবজাতকের জন্ম হয়েছে। প্রজনন হার উচ্চ হওয়ায় পাকিস্তানের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৫. ডিআর কঙ্গো: মধ্য আফ্রিকার শীর্ষ দেশ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে এ বছর প্রায় ৪৫ লাখ ৬০ হাজার (৪.৫৬ মিলিয়ন) শিশুর জন্ম হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে উচ্চ জন্মহারের কারণে দেশটি তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে।

৬. ইন্দোনেশিয়া: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে জন্মসংখ্যা প্রায় ৪৪ লাখ ৪০ হাজার (৪.৪৪ মিলিয়ন)। বিশাল জনসংখ্যার এই দেশটিতে গত কয়েক দশকে জন্মহার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও মোট সংখ্যা এখনও অনেক বেশি।

৭. ইথিওপিয়া: পূর্ব আফ্রিকার অবস্থান
পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় এ বছর প্রায় ৪১ লাখ ৮০ হাজার (৪.১৮ মিলিয়ন) শিশুর জন্ম হয়েছে। দেশটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এবং বড় পরিবারের ঐতিহ্যের কারণে জন্মহার এখনও বেশ উঁচুতে।

৮. যুক্তরাষ্ট্র: উন্নত বিশ্বের একমাত্র প্রতিনিধি
শীর্ষ ১০-এর তালিকায় উন্নত বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে অষ্টম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রায় ৩৬ লাখ ৬০ হাজার (৩.৬৬ মিলিয়ন) শিশু জন্ম নিয়েছে। অভিবাসন এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল জন্মহার দেশটিকে এই অবস্থানে রেখেছে।

৯. বাংলাদেশ: নবম স্থানে অবস্থান
২০২৫ সালের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার (৩.৪৪ মিলিয়ন) শিশু জন্ম নিয়েছে। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা ও নারী শিক্ষার প্রসারের ফলে প্রজনন হার (TFR) অনেক কমলেও, বিশাল জনসংখ্যার ভিত্তির কারণে মোট জন্মসংখ্যায় বাংলাদেশ শীর্ষ দশের অন্তর্ভুক্ত।

১০. ব্রাজিল: ল্যাটিন আমেরিকার শীর্ষ দেশ
তালিকার দশম স্থানে থাকা ব্রাজিলে ২০২৫ সালে জন্মসংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ ৩০ হাজার (২.৫৩ মিলিয়ন)। ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জন্মহার কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

২০২৫ সালের এই প্রক্ষেপণ বিশ্বজুড়ে এক বিশাল জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ভারত ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে চীন ও উন্নত দেশগুলোতে জন্মহার হ্রাস পাওয়া এক গভীর সংকটের বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এই বিশাল জন্মসংখ্যা যেমন জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend) কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর বাড়তি চাপও সৃষ্টি করছে। তাই টেকসই ভবিষ্যতের জন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারাকে জনসম্পদে রূপান্তর করাই এখন বিশ্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: UN World Population Prospects 2024, Our World in Data, Visual Capitalist.