ঢাকারবিবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

হাড় কাঁপানো শীতে নাকাল তেঁতুলিয়া, দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১১, ২০২৬ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ । ১২৩ জন

হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। হাড় কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল উত্তরের বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কনকনে ঠান্ডায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। এর আগের দিন শনিবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকা কুয়াশার কারণে তাপমাত্রা ক্রমশ নিচের দিকে নামছে। ফলে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। আজ তাপমাত্রা নেমে ৭ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছানোয় শীত আরও প্রকটভাবে অনুভূত হচ্ছে।

সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কনকনে ঠান্ডার কারণে মানুষজন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। বিভিন্ন মোড় ও চায়ের দোকানের সামনে শীত নিবারণের জন্য আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে দেখা গেছে শীতার্ত মানুষদের। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এ শীতে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। মাঘের এই শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

চা শ্রমিক সাইফুল ও জামালসহ কয়েকজন জানান, ভোরের দিকে প্রচণ্ড শীত ও হিমেল বাতাসের মধ্যে চা বাগানে পাতা তুলতে গিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। তবুও জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সদরের ভ্যানচালক সুজন আলী বলেন, “সকালে ভ্যান নিয়ে বের হওয়াই কষ্টকর। উত্তরের কনকনে বাতাসে শরীর ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে, ঠিকমতো ভ্যান চালানো যাচ্ছে না।”

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ সকাল ৯টায় ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকে। সামনের দিকে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।”