বেশ কয়েক দিন ধরেই কুয়াশার চাদরের সঙ্গে কনকনে হিমেল হাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত সারা দেশের মানুষ। রাজধানী ঢাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের ১৩ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর ও চুয়াডাঙ্গাসহ রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আগামী কয়েক দিন দেশের নদী অববাহিকায় শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়-৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিভিন্ন জেলার তাপমাত্রা অনুযায়ী, রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পাবনায় ৯ দশমিক ৪, নওগাঁয় ১০, যশোরে ৯ দশমিক ৮ এবং চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়।
বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ২ এবং সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন ১৬ দশমিক ৫ ও সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি, রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ১০ ও সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি, খুলনায় সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ৫ ও সর্বোচ্চ ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া সিলেটে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৬ ও সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ৩, বরিশালে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৬ ও সর্বোচ্চ ২৫, রংপুরে সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৩ ও সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৩ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫ ও সর্বোচ্চ ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শীত ও কুয়াশার কারণে বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে জনজীবনে ভোগান্তি বাড়তে পারে। প্রয়োজন ছাড়া ভোর ও রাতের দিকে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


